দীর্ঘ ২৪ বছরের এক বিষাদময় অপেক্ষার ইতি ঘটল তুরস্কের ফুটবলারদের। অবশেষে কসোভোকে তাদের ঘরের মাঠে পরাজিত করে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করল ভিনচেনজো মন্টেলার তুরস্ক। ২০০২ সালের সেই রূপকথার পর এই প্রথম ফুটবলের মহাযজ্ঞে ফিরছে তুর্কিরা।
কাগজে-কলমে ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামলেও শুরু থেকেই তুরস্ককে চেপে ধরে স্বাগতিক কসোভো। ম্যাচের প্রথম ভাগেই আসলানির একটি বুলেট গতির শট তুরস্কের গোলরক্ষক উগুরকান চাকির অবিশ্বাস্য দক্ষতায় প্রতিহত না করলে ম্যাচের গল্প অন্যরকম হতে পারত।
পাল্টা আক্রমণে তুরস্কও সুযোগ তৈরি করেছিল। তরুণ তুর্কি কেনান ইয়িলদিজের একটি শট কসোভো ডিফেন্ডার হাজরিজি গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করলে গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধে তুরস্কের খেলার ধরনে পরিবর্তন আনেন কোচ মন্টেলা। ফল আসে দ্রুতই। ৫৩ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে কেনান ইয়িলদিজের বাড়ানো বলে ওরকুন কোকচুর শট কসোভো রক্ষণভাগ সামলাতে ব্যর্থ হলে, গোলমুখে ওত পেতে থাকা কেরেম আকতুরকোগলু বল জালে জড়ান। উল্লাসে ফেটে পড়ে তুরস্কের ডাগআউট।
ম্যাচের শেষ দিকে কসোভো গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে উঠলেও তুরস্কের রক্ষণভাগ ছিল দেয়ালের মতো অটল। গোলরক্ষক আরিজানেট মুরিচ বেশ কিছু দুর্দান্ত সেভ করে কসোভোর হারের ব্যবধান বাড়তে দেননি, কিন্তু হার এড়াতে পারেননি।
এই জয় তুরস্কের ফুটবলে একটি নতুন যুগের সূচনা বলে মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা। আরদা গুলের, কেনান ইয়িলদিজদের মতো একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে কতদূর যেতে পারে তুরস্ক, এখন সেই হিসাব-নিকাশই শুরু হয়েছে ইস্তাম্বুলের কফি শপ থেকে আঙ্কারার রাজপথ পর্যন্ত।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই প্রিস্টিনার মাঠে লুটিয়ে পড়লেন তুরস্কের ফুটবলাররা। তবে তা ক্লান্তিতে নয়, বরং পরম তৃপ্তিতে।