অধিকৃত ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার একটি সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এতে থাকা ২৯ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও তাস জানায়, নিয়মিত ফ্লাইট চলাকালে বিমানটির সঙ্গে হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পরে সেটি পাহাড়ে বিধ্বস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানানো হয়, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে এএন ২৬ মডেলের বিমানটি ক্রিমিয়ার আকাশে উড্ডয়ন করছিল। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে। পরে অনুসন্ধানকারী দল দুর্ঘটনাস্থল শনাক্ত করে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে, বিমানে থাকা ছয়জন ক্রু ও ২৩ জন যাত্রী, মোট ২৯ জনই নিহত হয়েছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিধ্বস্ত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা চালাতে বেগ পেতে হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে প্রাথমিকভাবে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা বলা হচ্ছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, “বিমানে কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।” এতে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন বা পাখির সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনাকে নাকচ করা হয়েছে। একটি সামরিক তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছে।
চিকিৎসা ও উদ্ধার সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পাহাড়ে আঘাত লেগেই বিমানটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়, ফলে কারও বেঁচে থাকার সুযোগ ছিল না। ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার ও বিশ্লেষণের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
এএন ২৬ মডেলের বিমানটি সোভিয়েত আমল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বে সামরিক সরঞ্জাম ও সীমিত সংখ্যক যাত্রী পরিবহনে এটি ব্যবহৃত হয়। অতীতে বিভিন্ন দেশে এই মডেলের একাধিক বিমান দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখল করে রাশিয়া, এরপর থেকেই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।