কাউখালীতে আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ভবন সংকটের কারণে বালুর ওপরে ক্লাস করছেন। উপজেলা সদরে অবস্থিত আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিতে রয়েছে ভবন সংকট । কয়েক বছর আগে ঘূর্ণিঝড়ে স্কুলের মূল আদা পাকা ভবন বিধ্বস্ত হওয়ায় পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারনে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বালুর ওপর বসে ক্লাস করছে। এতে একদিকে যেমন ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ, অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের অস্থায়ী ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় কক্ষের অভাবে সপ্তম, নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা বালুর ওপর বসে ক্লাস করতে হচ্ছে। তীব্র গরম আর ধুলোবালির মধ্যেই শিক্ষকরা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। হালকা বাতাস হলেই বালু উড়ে চোখে মুখে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর তুলনায় কক্ষের সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। এদিকে দীর্ঘক্ষণ বালুতে বসে থাকায় শিক্ষার্থীদের শ্বাসকষ্ট ও এলার্জিসহ বিভিন্ন চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ছে। বাতাসের সাথে ওড়া বালুর কারণে বই-খাতা যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি মনোযোগ ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুমাইয়া, সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী পূজা দাস ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিদ, জানায় বাতাসের বালু চোখে মুখে যায়, গরমে মাথা ঘোরে। এভাবে বেশিক্ষণ পড়াশোনায় মন দেওয়া যায় না। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাইনুল ইসলাম মনির মোল্লা জানান, আমরা নিরুপায়। ভবন সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হয়েছে। শ্রেণিকক্ষ না থাকায় আমরা বাধ্য হয়েই এই বালুর উপরে ক্লাস নিচ্ছি। শিক্ষার্থীদের কষ্ট আমাদেরও ব্যথিত করে, কিন্তু পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকলে আমরা কী করতে পারি? স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক রিয়াদ মাহমুদ বলেন, অতি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না করলে ঝরে পড়ার হার বাড়তে পারে। অত্র প্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। ভবন সংকটের পাশাপাশি শিক্ষক সংকট রয়েছে। ইংরেজি, তথ্য ও যোগাযোগ, ভৌতবিজ্ঞান সহ পাঁচ বিষয়ের শিক্ষক নেই। অত্র প্রতিষ্ঠানে, প্রয়োজনীয় বেঞ্চ, ব্ল্যাকবোর্ড, টেবিল, চেয়ার সহ আসবাবপত্রের অভাব রয়েছে এ ব্যাপারে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, বিষয়টি আমি আপনাদের মাধ্যমে অবগত হয়েছি। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আমি অবিলম্বে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।