আসছে নতুন বাজেট

চারটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে

এফএনএস
| আপডেট: ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম | প্রকাশ: ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
চারটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে বহুমুখী সংকটের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। শিল্পখাতে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে, বহু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, বেকারত্ব বেড়েছে এবং মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানিসংকট, যা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আরও তীব্র হয়েছে। এমন বাস্তবতায় নতুন সরকারের সামনে আসন্ন বাজেট হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আগামী বাজেটের আকার হতে পারে প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। ফলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় দুই লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ সংকুচিত করতে পারে। এতে বিনিয়োগ আরও ধীর হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজেটকে হতে হবে বাস্তবসম্মত ও বিনিয়োগবান্ধব। বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা পুনরায় চালু করা, নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং কর্মসংস্থান বাড়ানো এখন সবচেয়ে জরুরি। ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে কর সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি শিল্পনীতি বাস্তবায়নের দাবি তুলেছেন। সরকারকে এসব বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা মনে করি, বাজেট প্রণয়নে কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রথমত, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় উৎসে গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পান। তৃতীয়ত, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। চতুর্থত, দারিদ্র্য নিরসন, সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে হবে।