কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

এফএনএস
| আপডেট: ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম | প্রকাশ: ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

রাজধানীসহ সারা দেশে কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও খুনসহ নানা অপরাধ বেড়েই চলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং গ্রেফতারও বাড়ছে। শহর ছাড়িয়ে গ্রামেও কিশোর অপরাধ মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, কয়েক বছর আগেও কিশোরদের মধ্যে এমন নৃশংস অপরাধ প্রবণতা ছিল কম। কিন্তু প্রযুক্তির বিস্তার, স্থানীয় আধিপত্যের লড়াই ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঘটেছে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরাও অসহায় হয়ে পড়েছেন। প্রতিবাদ করতে গিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটছে। কিশোর আইনের নমনীয়তার কারণে অনেক অভিযুক্ত দ্রুত জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়াচ্ছে, যা নতুন করে আইন সংশোধনের দাবি জোরালো করেছে। বয়স কম হওয়ার কারণে অপরাধীরা নমনীয় আচরণ পেলে আরো অপরাধ করতে উৎসাহী হয়ে উঠতে পারে। সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, কিশোর গ্যাং যে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, তা প্রতিরোধ করতে না পারলে পরিবার ও সমাজ বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। কেউই নিরাপদ থাকতে পারবে না। পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয় এখন নাজুক অবস্থার মধ্যে রয়েছে। সমাজের অভিভাবক শ্রেণীর মধ্যে গা বাঁচিয়ে চলার প্রবণতা প্রবল হয়ে উঠেছে। জনপ্রতিনিধিরা অপরাধকে প্রশ্রয় দেয়ায় সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে যাচ্ছে। এর সাথে দেশের অর্থনৈতিক দুর্দশা জড়িয়ে আছে। আয় কমে যাওয়ায় দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের বাবা-মায়েরা সন্তানদের খাদ্যসংস্থান থেকে প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। অর্থনৈতিক সংকটে পরিবারগুলোর মধ্যে অস্থিরতা ও অশান্তি বিরাজ করছে। এতে সন্তানদের অনেকে বিপথে চলে যাচ্ছে। কিশোর গ্যাংয়ের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। এর সুযোগ নিচ্ছে, একশ্রেণীর অপরাধপ্রবণ জনপ্রতিনিধি ও চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। তারা কিশোর গ্যাংকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও ব্যাপক গলদ রয়েছে। পাঠ্যপুস্তকগুলোতে নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গঠনে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। এতে উঠতি বয়সি শিক্ষার্থীদের মন ও মননে ভাল-মন্দ বিচারে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক শাসন-বারন কমে যাওয়ায় তারা বিপথে চলে যাচ্ছে। কিশোর গ্যাং দুর্বীনিত হয়ে পড়ার ক্ষেত্রে এসবের ঘাটতি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। জেলে বা সংশোধনাগারে নিয়ে এর প্রতিকার সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সমাজ ও পরিবারের অভিভাবক, জনপ্রতিনিধিদের সচেতনতা এবং উদ্যোগ। এ অপরাধ নির্মূলে প্রথাগত প্রক্রিয়ার পরিবর্তে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হবে। জেল থেকে বের হয়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যাতে পুনরায় জড়িত না হয়, তার জন্য জেলে আলাদাভাবে তাদেরকে নিয়ে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিক মূল্যবোধ বিষয় যুক্ত করতে হবে। 

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে