ভালুকায় অসহ্য গরম ও অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। লোকসানে পড়েছে বিদুৎত নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ব্যসায়ীরা। উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে ২৪ ঘন্টায় ৬-৭ বার লোডশেডিং হয়। ফলে গ্রাহকরা গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা বিদুৎ পাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিদুৎ নির্ভশীল ব্যবসায়ীরা। কষ্ট হচ্ছে শিশু,বৃদ্ধ ও হাসপাতালে থাকা রোগীর। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া,ফ্রিজ, টিভিসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। একাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহক জানান, একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে আর আসে না। সকাল থেকেই সূর্যের প্রচণ্ড তাপে প্রকৃতি হয়ে উঠছে রুক্ষ। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গরম। শহর থেকে গ্রাম কোথাও যেন স্বস্তি নেই। পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন গ্রাহকরা। অব্যাহত লোডশেডিংয়ের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিদুৎতের উপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ী পোল্টি খামার,ওয়ার্কসপ,রাইচমিল ও বরফ কলের মালিকরা। কষ্ট হচ্ছে শিশু, বৃদ্ধ ও হাসপাতালের রোগীর। লেখাপড়া বিঘ্ন ঘটছে শিক্ষার্থীদের। বিদুৎ অফিস সুত্রে জানা যায়, ভালুকা উপজেলায় বিআরইবি ও বিপিডিবি মিলে মোট গ্রাহক সংখ্যা ১ লক্ষ ৭৭ হাজার ৫শত। তার মাঝে বিআরইবি গ্রাহকই ১ লক্ষ ৪০ হাজার। উপজেলার পুরুরা গ্রামের গ্রাহক হায়দার আলী জানান, ঘন ঘন বেশ লোডশেডিং একবার বিদুৎ চলে গেলে আসার খবর থাকে না। এমনিতেই তীব্র গরম, তার ওপর দিন-রাত লোডশেডিং। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। ঘরে-বাইরে কোথাও শান্তি নেই। সারাদিন খাটনির পর রাতে ঘুমাতে গেলেও বিদ্যুৎ থাকে না। অসহ্য গরমে ঘুমানো যায় না। ওয়ার্কসপের মালিক আনচারোল জানান,বিদুৎতের লোডসেডিংয়ের কারনে কোন কাজ করা যাচ্ছে না। চারজন কর্মচারী তাদের বসে থাকতে হয়। কখন বিদুৎত আসবে। গ্রাহকের মাল ডেলিভারী দিতে পারছি না। তাতে প্রতিদিন লোকসান হচ্ছে। এভাবে চললে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। উপজেলার গোয়ারী গ্রামের পোল্টি খামার মালিক দুলু মিয়া জানান,বিদুৎতের ঘন ঘন লোডসেডিংয়ের কারনে গমমে মুরগী মারা যাচ্ছে। এ ভাবে লোডসেডিং চলতে থাকলে পোল্টি খামারীরা বড় লোকসান পড়বে।
এসএসসি পরীক্ষার্থী সামিয়া আক্তার জানান, একদিকে অসহ্য গরম, অন্যদিকে লোডশেডিং থাকায় আমাদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। সন্ধ্যা হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। ফলে অসহ্য গরমে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তে হচ্ছে। বৈদ্যুতিক কারিগর রফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের কাজগুলো বিদ্যুৎনির্ভর। সকালে দোকানে এসে দেখি বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ নেই। কাজ করতে না পারায় অলস সময় কাটাতে হয়। এতে আমাদের আয়-রোজগার অনেকটাই কমে গেছে।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. আকমল হোসেন জানান, গ্রাহকের চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা কম রয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে ২০% লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। লোডশেডিং কমিয়ে আনতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে তেল ও ফার্নেস অয়েলের সংকটের কারণে সামনে লোডশেডিং কিছুটা বাড়তে পারে। গ্রাহকদের কষ্ট হোক, এটি আমাদের কারও কাম্য নয়।