দামি ওষুধ নিতে হলে রাজনৈতিক তদবির লাগে

পুঠিয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দামি ওষুধ পায়না সাধারণ রোগীরা

এফএনএস (কে এম রেজা; পুঠিয়া, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
পুঠিয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দামি ওষুধ পায়না সাধারণ রোগীরা

রাজশাহীর পুঠিয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দামি ওষুধ সাধারণ রোগীরা পায়না।  তবে দামি ওষুধ নিতে হলে রাজনৈতিক এবং এলাকার পরিচিত ব্যক্তির তদবির থাকলে দামি ওষুধ পাওয়া যায়। কমপ্লেক্সের কিছু অসাধু কর্মচারী কর্মকর্তারা দামি ওষুধগুলো তাদের আত্মীয়স্বজন এ কাছের ব্যক্তিদের মাঝে বিতরণ করার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে আট মাস যাবত ধরে ছয় ইউনিয়নে ২৮টি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ওষুধ দেওয়া বন্ধ করে রাখা হয়েছে। জানা গেছে, এটি একটি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সরকারি নিয়মনুযায়ী এখানে ২৮ জন চিকিৎসক কর্মরত থাকার বিধান রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত ডাক্তারের সংখ্যা রয়েছে ১৫ জন। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পদ রয়েছে ১১ জন। আর এখন আছেন ৮ জন। এদের ভিতর মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা মতিউর রহমান দীর্ঘ ১৭ মাস যাবত ধরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেষণে সংযুক্তি হিসাবে রয়েছেন। কিন্তু তার বেতন-ভাতা এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে দেওয়া হচ্ছে। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পার্শ্বে হওয়ায়। কয়েকটি উপজেলার মিলন স্থলে পরিণত হয়েছে। এখানে প্রতিদিন বর্হিঃ বিভাগে শতশত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ১৯ এপ্রিল সরেজমিনে দেখা গেছে, আঃ বিভাগে বর্তমানে ওয়ার্ডের বারান্দায় রোগীরা চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। রোগীর গাদাগাদিতে পা ফেলার স্থান নেই। অনেক চিকিৎসকরা দুপুর ১২টার পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোনো রোগী দেখেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার কেউ কেউ কর্মরত অবস্থায় উপজেলার বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা স্বাস্থ্য সেবা দিতে দেখা যায়। গাইনি ডাক্তার আছে। কিন্তু সে সিজার অপারেশন করেন না। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সকল প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার ব্যবস্থা থাকলেও বেশিরভাগ পরীক্ষা বিভিন্ন অজুহাতে বাহির হতে ডাক্তাররা করায়ে থাকেন। এখানে যুগের পর যুগ অনেক কর্মচালী/কর্মকর্তা অনিয়ম করার পরও তারা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকজন আউট সোর্সের কর্মচারী হিসাবে নিয়োগ দিয়ে ছিল। বর্তমানে চাকরি হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। এখন তারা বিভিন্ন ডাক্তার ও প্রাইভেট ক্লিনিকের হয়ে হাসপাতাল হতে আয় করছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্হি বিভাগে আসা রোগীদের আউটসোসিং কর্মচারিদের অনিয়ম দুর্নীতির প্রকাশ্য দেখতে পাওয়া যায়। এরপর কাকডাকা ভোর হতে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকের নারি-পুরুষ দালালদের টানাহেচড়ায় রোগীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে। গোলাম রসুল নামের রোগীর স্বাজন বলেন, বর্হিঃ বিভাগে প্রতিদিন শতশত আসছে। হাসপাতাল হতে দুই/তিনটির বেশি ওষুধ দেওয়া হয় না। গ্রাম থেকে আসার জন্য আমাদের দামি ওষুধ দেওয়া হয় না। ভালুকগাছি ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভতি হওয়া রোগী শেফালি বেগম বলেন, পুঠিয়া সদরে যারা বসবাস করেন্ এবং হাসপাতালে সঙ্গে সুসর্ম্পক রয়েছে।  সেইবস রোগীদের সরকারি দামি ও ভালো ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। আর আমাদের দামি ওষুধগুলো বাহির হতে কিনে আনতে বলা হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মচারীরা জানায়, রাজনৈতিক তদবিরে হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে দামি ওষুধ নিয়ে বাহিরে গিয়ে বিক্রি করে দেয়। আমরা প্রতিবাদ করলে মবের শিকার হবো। এ কারণে সাধারণ গ্রামের রোগীরা দামি ওষুধ হতে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডা শশী শবনম কর্মকর্তা চৌধুরি বিভিন্ন অজুহাতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত অফিসে আসেন না। প্রাইভেট ক্লিনিকের মহিলা দালাল বলেছেন,আমাদের ক্লিনিক ও প্যাথলজির মালিকরা নিয়মিত হাসপাতালের ডাক্তারদের মাসোহারা দিয়ে থাকেন। তাই আমরা প্রতিদিন হাসপাতালের এসে ক্লিনিকের জন্য রোগী নিয়ে যায়।  এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা সূচনা মনোহরা বলেন, আমি সম্প্রতি শুনেছি,স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে কিছু ব্যক্তি নিয়মিত দামি ওষুধ নিয়ে যায় তা আমি শুনেছি। এই চক্রটিকে আমরা হাতেনাতে ধরা চেষ্টা করছি। হাসপাতালে বর্তমানে মেডিসিন, যৌন চর্ম, চোখ ও ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ভীষণ প্রয়োজন রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে