আশাশুনিতে ধানের জমিতে লোনাপানি তোলার অভিযোগ

এফএনএস (জি.এম. মুজিবুর রহমান; আশাশুনি, সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
আশাশুনিতে ধানের জমিতে লোনাপানি তোলার অভিযোগ

আশাশুনিতে রাতের আঁধারে কালকির স্লুইসগেটের পাট তুলে পার্শ্ববর্তী ৮ গ্রামের প্রায় দশ হজার বিঘা ধান চাষের জমিতে লোনাপানি উঠানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে এলাকায় ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। 

জানাগেছে, কালকির স্লুইসগেটের পাট তুলে দেওয়ার ফলে কপোতাক্ষ নদের লোনা পানি খাল দিয়ে ঢ়ুকে খাজরা ইউনিয়নের গজুয়াকাটি, রাউতাড়া, গোয়ালডাঙ্গা, পিরোজপুর, খালিয়া, ফটিকখালীসহ বড়দল ইউনিয়নের দক্ষিণ বাইনতলা ও পাঁচপোতা গ্রামের হাজার হাজার বিঘা ধানের জমি তলিয়ে গেছে।  ক্ষতিগ্রস্ত গজুয়াকাটি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক শিবপ্রসাদ মণ্ডল জানান, গত ১৫ দিন আগে রাতের অন্ধকারে কে বা কারা স্লুইসগেটের পাট তুলে দেয়। এতে আমাদের পূর্ব ও পশ্চিম বিলের প্রায় ৭০০ বিঘা ধানের জমিসহ পুকুরে লোনা পানিতে ভরে গেছে। এতে গাছ গাছালির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  কৃষক সতীশ চন্দ্র বৈদ্য জানান, বিলের গরমের ধান এখনও কাটা শেষ হয়নি। এরমধ্যে লোনা পানি তুলে দেওয়ায় ধানের ক্ষেত, স্নান ও রান্নার জলের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। বিলে লোনা জল তুলে ঘাস ও মিষ্টি পানির আধার নষ্ট হয়ে গবাদিপশু সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে।  ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী জানান, গত কয়েক দিন আগে রাতের আঁধারে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাউতাড়া গ্রামের রুহুল আমিন গাজীর বাড়ি সংলগ্ন চেউটিয়া খালের উপর নির্মিত একটি কার্লভাটের পাট তুলে দেয়। এতে রাউতাড়া গ্রামের প্রায় ১৫০০ বিঘা, গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের প্রায় ৩০০ বিঘা, পিরোজপুর গ্রামের প্রায় ৫০০ বিঘা, দূর্গাপুর গ্রামের ৩০০ বিঘা, খালিয়া গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক বিঘা ধানের জমি তলিয়ে গেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য রামপদ সানা জানান, গত ১৫ দিন ধরে কালকি স্লুইসগেট দিয়ে কপোতাক্ষ নদের লোনা পানি চেউটিয়া খাল ছাপিয়ে ফটিকখালি গ্রামের প্রায় ১৭০০ বিঘা ধানের জমিতে ঢ়ুকে পড়ে। এসময় অনেক জমির ধান কাটা শেষ হয়নি। লোনা পানিতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। কালকির স্লুইসগেটের সামনে ও ভেতরে পলি ভরাট হয়ে বিগত ৩ বছর ধরে এসব এলাকায় কোন ফসল হয়নি। এবছর গরমের ধান চাষ করে কৃষকরা কিছুটা আশান্বিত হয়েছিল কিন্তু লোনাপানির জন্য আবার সব শেষ হতে চলেছে। লোনা পানির জন্য ধানের জমিতে লবণাক্ততার মাত্রা বেড়ে গিয়ে আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পানি তোলার আগে যদি জানানো হত তাহলে বিলের ধানের জমিতে লোনাপানি প্রবেশের পথ আটকানো যেতো। খাজরা ইউনিয়ন নদী খাল সুরক্ষা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হাবিবুর রহমান ও সদস্য জাহাঙ্গীর কবির জানান, বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। কোন ব্যবস্থা না নিলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। স্লুইসগেটটি সংস্কারের পর কোন তদারকি কমিটি নেই। স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল খালে মাছ ধরার জন্য এসব করছে। কমিটির পক্ষ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়ার সাথে কথা হয়েছে তিনি অতিদ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, স্লুইসগেট সংলগ্ন দক্ষিণ বড়দল গ্রামের আব্দুস সামাদ ও তার ছেলে আজহারুল ইসলাম কিছু বিপথগামী ছেলেদের সাথে নিয়ে এই গেটটি নিয়ন্ত্রণ করে এবং নদী ও খালের ভেতর মাছ ধরে থাকে। গেটের পাট তুলতে তারা একটি স্কেবেটর মেশিন ব্যবহার করেছে। হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে পারে না। এ ব্যাপারে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, আমি সরজমিনে গিয়ে তদন্ত করেছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের বলেছি। এছাড়া তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।