প্রধান শিক্ষকসহ ২ শিক্ষকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

এফএনএস (মোঃ আরিফুল হক তারেক; মুলাদী, বরিশাল) : | প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
প্রধান শিক্ষকসহ ২ শিক্ষকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

বরিশালের মুলাদীতে এক প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ১০টার উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের আলহাজ্ব গোলাম কিবরিয়া টিপু মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বেলা ২টার দিকে মুলাদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে দুই দফা মানববন্ধন করা হয়। গত ২১ এপ্রিল দুপুরে আলহাজ্ব গোলাম কিবরিয়া টিপু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন ও সহকারী শিক্ষক আশামনির ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই মানববন্ধন করেন। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেন। প্রাকনির্বাচনী ও নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ২০২৬ সালের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ফরমপূরণ না করায় ওই শিক্ষার্থী ও তার চাচাতো ভাই রিফাত ঘরামী (২২) হামলা চালিয়ে দুই শিক্ষককে আহত করেন বলে অভিযোগ করেন মানববন্ধনকারীরা। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, মুলাদী গফুর মল্লিক বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম, চরলক্ষ্ণীপুর বোর্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দীন আহমদ, আল রাজী ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আহাদ ভূইয়া, আলহাজ্ব গোলাম কিবরিয়া টিপু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন মৃধা, অভিভাবক শহীদুল্লাহ মৃধা, আনিচ শেখ, আবুল হোসেন মৃধা, মোশাররফ সরদার, সেলিম ফকির, সুলতান সরদার, মাহবুব মৃধা, কাঞ্চন শেখ, ফিরোজ মৃধা, নিপু হাওলাদার, শাহাবুদ্দিন ব্যাপারী, ফরিদ মৃধা, জুয়েল ভূইয়া, শিক্ষক আসাদ হোসেনসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। আলহাজ্ব গোলাম কিবরিয়া টিপু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আশামনি জানান, রিফাত ঘরামীর চাচাতো ভাই (১৬) ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তার ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া কথা ছিল। কিন্তু ওই ছাত্র নিয়মিত বিদ্যালয় উপস্থিত হতো না এবং প্রাক নির্বাচনী ও নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি। বিষয়টি ওই ছাত্রের অভিভাবক ছানাউল ঘরামীকে অবহিত করলে তিনি 'পরীক্ষা কঠিন' হওয়ার আশঙ্কায় ছেলেকে দিয়ে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কথা জানান। পরে ওই ছাত্রের ফরমপূরণ হয়নি। গত ২১ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র নাজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রওয়ানা দেন প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দীন ও সহকারী শিক্ষক আশামনি। তারা দুজন পূর্ব নাজিরপুর গ্রামের আব্দুল জলিল ব্যাপারীর বাড়ির সামনে পৌছলে রিফাত ঘরামী ও তার চাচাতো ভাই (ছাত্র) লোকজন নিয়ে পথরোধ করেন। পরে ফরমপূরণ না করার অভিযোগে তারা প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষককে বাঁশ ও স্ট্যাম্প দিয়ে বেধরক পিটিয়ে মারাত্মত আহত করেন। এসময় প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দীনের হাত ভেঙে যায়। পরে শিক্ষকদের ডাকচিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।  ওই ঘটনায় আশামনির বাবা ওসমান গনি বাদী গত ২৫ এপ্রিল মুলাদী থানায় একটি অভিযোগ দেন। তবে থানা পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ না করে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।  অভিযোগের পরেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা দুই দফা মানববন্ধন করেন এবং জড়িতদের বিচারের দাবিতে স্মারকলিপি দেন। এ ব্যাপারে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, দুই শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে তদন্তে দেখা গেছে ওই শিক্ষকদের ওপর হুমকি রয়েছে। তাই বিষয়টি সাধারণ ডায়েরি করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশ পেলেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হবে।  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার জানান, দুই শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা মানববন্ধন করেছেন এবং বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এবিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে