চলচ্চিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়তে থাকায় বড় ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্কার কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মানুষের তৈরি কাজই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবে। শুক্রবার (১ মে) এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছে একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস, বিবিসি জানিয়েছে।
নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, যেসব চরিত্রে অভিনয় বাস্তবে মানুষের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে এবং যেসব চিত্রনাট্য মানুষের লেখা, সেগুলোকেই অস্কারের জন্য যোগ্য ধরা হবে। আগে এ বিষয়ে এত স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল না। প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের এই সময়ে একাডেমির এই পদক্ষেপকে বড় পরিবর্তন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে চলচ্চিত্রে এআইয়ের ব্যবহার চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। মৃত অভিনেতাদের ডিজিটাল প্রযুক্তিতে ফিরিয়ে আনা থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ কৃত্রিম চরিত্র তৈরির ঘটনাও ঘটছে। এমনকি চিত্রনাট্য লেখার ক্ষেত্রেও এআই ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, বিশেষ করে লেখকদের ধর্মঘটের সময় এটি বড় ইস্যু হয়ে ওঠে।
একাডেমি অবশ্য এআই ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেনি। বরং তারা স্পষ্ট করেছে, সৃজনশীলতার মূল নিয়ন্ত্রণ যদি মানুষের হাতে থাকে, তাহলে অন্য ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার থাকলেও তা অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে না। প্রয়োজনে কোনো প্রজেক্টে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত তথ্যও চাওয়া হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রযুক্তির অগ্রগতিকে অস্বীকার না করেও সৃজনশীলতার কেন্দ্রে মানুষকে রাখার বার্তা দিয়েছে অস্কার কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষায়, “চলচ্চিত্র শিল্পে প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, গল্প বলা এবং অভিনয়ের প্রাণটা মানুষের হাতেই থাকতে হবে।”
এদিকে নতুন নিয়মে অভিনয় বিভাগেও একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে একজন অভিনেতা একই ক্যাটাগরিতে একাধিক পারফরম্যান্সের জন্য মনোনয়ন পেতে পারেন, যদি তিনি ভোটের শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নেন।
সব মিলিয়ে, প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার ভারসাম্য রক্ষায় অস্কারের এই পদক্ষেপ চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।