চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধ সংরক্ষণ প্রকল্প কাজের সিসি ব্লক এলোমেলো ভাবে ফেলার কারণে চাঁদপুর নদী বন্দরে প্রধান ব্যবসায়িক এলাকা পুরাণবাজারের ঘাটগুলো প্রায় বন্ধ হয়ে অচলবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।এতে চরম বিপাকে পড়েছেন বন্দরের ব্যবসায়ী পণ্যবাহী নৌযানের মাঝিমাল্লা,ট্রলার ও খেয়া যাত্রীসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা।
ঘাট সোজা বরাবর সিসি ব্লকগুলো প্লেসিং না করায় ব্যবসায়ীদের পণ্য উঠা নামায় চরম প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে। এতে চাঁদপুরে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী সরবরাহের ঘাটতি এবং সংকট দেখা দেয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। ঘাট গুলো সচল রাখার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী, ঠিকাদার এবং বিআইডব্লিউটিএর পোর্ট অফিসার সমন্বয়ে জরুরী ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুভাষচন্দ্র রায়, সিনিয়র সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষসহ চেম্বারের নেতৃবৃন্দ।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন,বিষয়টি চেম্বার নেতৃবৃন্দ আমাদেরকে অবগত করেছেন। আজকে আমাদের উপ সহকারী প্রকৌশলী সেখানে যাবে এবং ঘাটগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার জন্য কাজ করা হবে। চাঁদপুরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা শহরের পুরানবাজারের নদী তীরে ট্রলা, খেয়া এবং কার্গো ঘাটগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় পল্টুন না থাকায় ব্যবসায়ীদের মালামাল লোড-আনলোডে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ নদীবন্দরের এই ঘাটগুলো থেকে পার্কিং চার্জ আদায় করছে।
এদিকে মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে, শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণে নদীতীরে ফেলে রাখা ব্লগগুলো। বাঁধ নির্মাণে দায়িত্বরত শ্রমিকরা বিশাল সাইজের ব্লকগুলো এলোমেলো করে ফেলে রাখায় নদী থেকে মালামাল লোড-আনলোড করতে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। ব্লক পাড় হতে গিয়ে স্থানীয় শ্রমিকরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে পুরানবাজারের পশ্চিম বাজার ঘাট, দেওয়ানঘাট, দুধবাজার ঘাট ও খৈল-ভূষি ঘাট, ভূঁইয়ার ঘাট এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
অপরদিকে বৈশ্বিক সংকটের কারণে ডিজেলের সরবরাহ কম এবং দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নৌযান পরিবহনে খরচও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় উল্লেখিত ঘাটগুলোতে পল্টুন নির্মাণ এবং নৌযান পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের কাছে লিখিত আবেদন করেছে চাঁদপুর পন্যবাহি নৌযান মালিক সমিতি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দ সোমবার (৪ মে) দুপুরে পুরানবাজারের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন। তারা ব্যবসায়ী এবং শ্রমিকদের সমস্যাগুলো মনোযোগ সহকারে শুনেন এবং সমাধানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষের পরিচালনায়, উপস্থিত ছিলেন চেম্বারের পরিচালক নাজমুল আলম পাটোয়ারী, পরেশ মালাকার, গোপাল চন্দ্র সাহা,শাহজাহান কবির খোকা, মো. আসলাম তালুকদার, চেম্বারের সচিব শেখ আব্দুল মোতালেব টুটুল, পাইকারি ব্যবসায়ী সুবল পোদ্দার,বাপ্পি দাস,অনু সাহা সহ অন্যান্য ব্যবসায়ীবৃন্দ।
চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ বলেন, একে তো পুরাণবাজারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে কোন পল্টুন নেই। তার ওপর সম্প্রতি শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য শ্রমিকরা এলোমেলোভাবে বিশাল সাইজের ব্লকগুলো ফেলে রেখেছে। এতে করে নদীপথে আসা ব্যবসায়ীদের মালামাল লোড আপলোড করতে শ্রমিকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বিশাল সাইজের ব্লকগুলো পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক শ্রমিক দুর্ঘটনা শিকার হচ্ছে। বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নদী তীরের ঘাট সংশ্লিষ্ট স্থানে যদি ব্লগগুলো সমান করে ফেলা হয়, তাহলে শ্রমিকদের মালামাল বহন করতে সুবিধা হবে।
চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায় বলেন, পুরানবাজার ব্যবসায়ীদের মালামাল আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই নৌ পরিবহনের উপর নির্ভরশীল। এখানে নদীর তীরে অনেকগুলো ঘাট রয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের মালামাল লোড-আনলোডের জন্য ঘাটগুলোতে কোন পল্টুন নেই। বিষয়টি নিয়ে আমরা চাঁদপুর বন্দর কর্মকর্তা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছেন সারেজমিনে এসে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।