মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের সঙ্গে দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, সবকিছু অনুকূলে থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই একটি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হতে পারে।
বুধবার (৭ মে) ফক্স নিউজের এক লাইভ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ব্রেট বায়ার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদী মনোভাব দেখা গেছে। বায়ারের ভাষ্য, “আমি সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, সব ঠিক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই এটি সম্পন্ন হতে পারে।”
তবে বিষয়টিকে এখনই নিশ্চিত কিছু হিসেবে দেখছেন না ট্রাম্প। ব্রেট বায়ার জানান, প্রেসিডেন্ট পুরো প্রক্রিয়াকে “সতর্ক আশাবাদ” হিসেবে দেখছেন। একই দিনে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তারাও চুক্তি করতে আগ্রহী। এখন দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়।”
সম্ভাব্য এ চুক্তির মূল আলোচনায় রয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর একটি হলো ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া। অন্যটি হলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক রাখা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। এরপর ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ-অবরোধও জারি রাখে।
মঙ্গলবার (৬ মে) ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে শুরু করা মার্কিন বিশেষ অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।
মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সম্ভাব্য এই চুক্তিকে শুধু ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
আনাদোলু ও মিডল ইস্ট মনিটর জানায়, উভয় পক্ষই আপাতত সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে।