মশার দাপট বাড়ছে

নিয়ন্ত্রনে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

এফএনএস
| আপডেট: ৭ মে, ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম | প্রকাশ: ৭ মে, ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
নিয়ন্ত্রনে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

রাজধানীতে মশার উপদ্রব আবারও উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। সামপ্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে মশার পরিমাণ ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে । এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই কিউলেক্স প্রজাতির। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, নর্দমা ও জলাশয়ের দূষণ, দুর্বল তদারকি এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসের তুলনায় চলতি মাসে মশার ঘনত্ব ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গবেষণায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লার্ভা ও প্রাপ্তবয়স্ক মশার উপস্থিতি বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া যায়। গবেষকরা জানান, রাজধানীর মশার প্রায় ৯০ শতাংশই কিউলেক্স প্রজাতির। বাংলাদেশে সাধারণত কিউলেক্স, এডিস ও অ্যানোফিলিস এই তিন প্রজাতির মশা দেখা যায়। কিউলেক্সের কামড়ে ফাইলেরিয়া ও জাপানি এনকেফালাইটিসের ঝুঁকি থাকলেও দেশে এ রোগ তুলনামূলক কম। তবে ব্যাপক বিস্তারের কারণে এই প্রজাতিই এখন নগরবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠেছে। দিন কিংবা রাত সবসময়ই নগরবাসী মশার আক্রমণের শিকার হচ্ছে। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে ঝাঁকে ঝাঁকে মশা ঘিরে ধরে। স্বস্তিতে বসার কোনো উপায় নেই। শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। মশার উৎপাতে ঘরে-বাইরে, অফিস-আদালতে কোথাও মানুষের স্বস্তি নেই। মশার উপদ্রব কমাতে দুই সিটি করপোরেশনকে অধিক তৎপর হওয়া দরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ফগিং নয়, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, নির্মীয়মাণ ভবন ও ছাদে জমে থাকা পানির নজরদারি এবং সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া রাজধানীতে মশার ভয়াবহ বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিনই থেকে যাবে। মশা নিয়ন্ত্রণ করে নগরবাসীকে স্বস্তি দেয়ার দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া দরকার। সরকারকে জনগণের চলতি সমস্যা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধান করতে হবে। বড় বড় প্রকল্পের কাজের চেয়ে মানুষের চলমান সমস্যা দ্রুত সমাধানে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বড় বড় প্রকল্পের কাজের চেয়ে বর্তমান সমস্যার সমাধান করাই শ্রেয়।