জামালপুরে কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণের দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৭ মে, ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
জামালপুরে কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণের দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

জামালপুরে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণের দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। তবে এ মামলার আরেক আসামি খালাস পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের শিলদহ এলাকার শিপন (২১), ইব্রাহিম (২৭) ও ইউসুফ আলী (২২)। একই মামলায় খালাস পেয়েছেন একই এলাকার মো. সাদিক।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি (পাবলিক প্রসিকিউটর) মো. ফজলুল হক জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীর সঙ্গে সাদিকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের আশ্বাসে ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল রাতে সাদিক ওই কিশোরীকে বাড়ির পাশের মাঠে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি কিশোরীকে ধর্ষণ করেন।

এ ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেয়। ফজলুল হক বলেন, “সাদিক যখন ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করছিল, তখন আশপাশে আগে থেকেই ওৎ পেতে ছিলেন শিপন, ইব্রাহিম ও ইউসুফ। সাদিক তাদের দেখে দৌড়ে পালিয়ে যান। এরপর তারা তিনজন কিশোরীকে ভয় দেখায়—এলাকার লোকজনকে সব বলে দেবে। সেই ভয় দেখিয়ে তারা দলবদ্ধভাবে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে।”

ধর্ষণের পর ঘটনাস্থল থেকে কিশোরীকে বাড়িতে পৌঁছে দেয় আসামিরা।

ঘটনার ১৬ দিন পর, ৫ মে নির্যাতনের শিকার কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় সাদিকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার নথিপত্রও পর্যালোচনা করে আদালত।

রায়ে তিন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগী কিশোরীকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

তবে কেন সাদিককে খালাস দেওয়া হলো? রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান, আদালতে ভুক্তভোগী কিশোরী নিজেই জবানবন্দি দিয়েছেন যে “তার সম্মতিতে” সাদিকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল। আর জোরপূর্বক ধর্ষণের বিষয়টি প্রমাণিত না হওয়ায় সাদিককে খালাস দেন বিচারক।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, অন্য তিন আসামির অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। জোরপূর্বক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে আদালত সর্বোচ্চ সাজাই দিয়েছেন। এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ফজলুল হকের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী রোজিনা আক্তার। আসামি পক্ষে আইনজীবী আমান উল্লাহ আকাশ, রাফিউর রহমান ও আজিজুল হক।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে