হামাসের শীর্ষ সামরিক নেতাকে হত্যা, দাবি ইসরায়েলের

এফএনএস অনলাইন ডেস্ক: | প্রকাশ: ১৬ মে, ২০২৬, ১১:৫২ এএম
হামাসের শীর্ষ সামরিক নেতাকে হত্যা, দাবি ইসরায়েলের

গাজায় হামাসের শীর্ষ সামরিক নেতা ইজ্জ আদ-দীন আল-হাদ্দাদকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় তিনি নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। শুক্রবার (১৫ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু  ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লার বরাতে প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী হত্যাচেষ্টা সফল হয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ)।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইডিএফের সাউদার্ন কমান্ড ও সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে বিমান হামলাটি চালানো হয়। কয়েক বছরের গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে হাদ্দাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।

হামাসকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে হামলার আগে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী একটি গোপন অভিযান চালায়। অভিযানের পর স্থল, নৌ ও আকাশপথে সেনাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

ইজ্জ আদ-দীন আল-হাদ্দাদকে হামাসের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ডারদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইসরায়েলের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সঙ্গে জড়িত গাজায় অবস্থানরত শেষ শীর্ষ নেতাও ছিলেন তিনি। ১৯৮৭ সালে হামাসের সামরিক শাখা প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন হাদ্দাদ।  

ইসরায়েলের দাবি, যুদ্ধ চলাকালে তিনি নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করতেন এবং আইডিএফের হামলা এড়াতে জিম্মিদের আশপাশে রাখতেন। তার নেতৃত্বে হামাস জিম্মিদের হত্যা, নির্যাতন ও অনাহারে রাখার মতো কর্মকাণ্ড চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তেলআবিব।

ইসরাইল দাবি করেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন আল-হাদ্দাদ। হামলার পর জিম্মিদের আটকে রাখার ঘটনাতেও তার ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজাকে সামরিকমুক্ত করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থিত চুক্তি বাস্তবায়নে তিনি বাধা দিচ্ছিলেন বলেও দাবি করেছে ইসরাইল।

‘আল-কাসসাম ব্রিগেড’-এর প্রধান হিসেবে পরিচিত আল-হাদ্দাদকে হামাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হামাসের সাবেক শীর্ষ নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার, তার ভাই মোহাম্মদ সিনওয়ার এবং মোহাম্মদ দেইফ নিহত হওয়ার পর তিনি সংগঠনটির অন্যতম সিদ্ধান্তগ্রহণকারী নেতা হয়ে ওঠেন।

এদিকে হামাস এখনো এ হামলা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। আল-হাদ্দাদ নিহত বা আহত হয়েছেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও।

গত অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। তাদের দাবি, এসব হামলা হামাসের অবস্থান কিংবা ইসরাইলি বাহিনীর জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৮৫০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে