সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারে ঢ়ুকে মইনুল ইসলাম (৩০) নামের এক পরিচালককে লোহার রড ও জিআই পাইপ দিয়ে পিটিয়ে এবং কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় কোচিংয়ের ক্যাশ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত সোয়া নয়টার দিকে পুরাতন সাতক্ষীরা হাটখোলার উত্তর পাশে ‘নলেজ একাডেমিক পয়েন্ট কোচিং সেন্টার’-এ এই হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মইনুল ইসলাম বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে সাতক্ষীরা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন-পুরাতন সাতক্ষীরা (নাথপাড়া) এলাকার ইমরান হোসেন (২৪), মো. তোহা (২১), মো. শিপন হোসেন (২৬) ও মো. রকি (২২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মইনুল ইসলামের পরিচালিত ওই কোচিং সেন্টারে মামলার এক আসামির ১৬ বছর বয়সী বোন পড়াশোনা করত। কোচিংয়ে আসা-যাওয়ার সুবাদে সেন্টারের শিক্ষক আলফাজের সঙ্গে ওই ছাত্রীর অতিরিক্ত কথাবার্তা বলা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন তৈরি হয়। বিষয়টি পরিচালকের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি কোচিংয়ের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে শিক্ষক আলফাজকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেন এবং ওই ছাত্রীকেও কোচিংয়ে আসতে নিষেধ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, এই ঘটনার পর ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে তার ভাইদের বিষয়টি জানালে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাতে আসামিরা লোহার রড, জিআই পাইপ ও বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কোচিং সেন্টারের নিচতলার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তারা পরিচালক মইনুল ইসলামের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান। এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ১ নম্বর আসামি ইমরান তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জিআই পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তাঁর মাথা কেটে যায়। পরে হাসপাতালে তাঁর মাথায় চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। ২ নম্বর আসামি তোহা লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে মইনুল ইসলামের বাম গাল কেটে রক্তাক্ত জখম হয় এবং সেখানেও চারটি সেলাই লাগে। এছাড়া অন্য আসামিরা বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করেন। হামলার একপর্যায়ে ১ নম্বর আসামি ইমরান হোসেন পরিচালকের কাছে থাকা নগদ ৪২ হাজার ৫২০ টাকা ছিনিয়ে নেন এবং যাওয়ার সময় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা গুরুতর আহত মইনুল ইসলামকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা নিতে ব্যস্ত থাকার কারণে থানায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্ত করে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।