আইসিডিডিআরবির সামপ্রতিক গবেষণা ঢাকার স্কুলগামী শিশুদের দৈনন্দিন জীবনে একটি উদ্বেগজনক বাস্তবতা উন্মোচন করেছে; শিশুরা গড়ে প্রায় ৪.৬ ঘণ্টা স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, টিভি, কম্পিউটার ও গেমিং ডিভাইসে কাটাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সুপারিশের তুলনায় অনেক বেশি এবং এর প্রভাব শারীরিক ও মানসিকভাবে স্পষ্ট। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে ঘুমের ঘাটতি, মাথাব্যথা, চোখের সমস্যা, স্থূলতার ঝুঁকি এবং আচরণগত পরিবর্তন- যেমন দেরিতে ঘুমানো, রাগপ্রবণতা, একাকিত্ব পছন্দ করা ও বাইরের খেলাধুলায় অনাগ্রহ- নজরে এসেছে; গবেষণায় দেখা গেছে যারা দিনে দুই ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন ব্যবহার করে তাদের ঘুমের গড় সময় মাত্র ৭.৩ ঘণ্টা, যা শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও মস্তিষ্ক বিকাশের জন্য অপর্যাপ্ত। এই পরিস্থিতির মূল কারণগুলো হলো ডিজিটাল ডিভাইসের সহজলভ্যতা, অনলাইন ক্লাস ও বিনোদনের বিস্তার, শহুরে পরিবেশে নিরাপদ খেলার জায়গার অভাব এবং অভিভাবকদের ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণে অনীহা বা অজ্ঞতা। সমাধান ব্যক্তিগত উদ্যোগে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না; পরিবার, স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা ও নীতিনির্ধায়কের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। পরিবারগুলোকে প্রতিদিনের রুটিনে স্পষ্ট স্ক্রিন সীমা আরোপ করতে হবে, রাতের নির্দিষ্ট সময় পর্দা বন্ধ রাখার নিয়ম কঠোরভাবে মানতে হবে এবং বিকল্প কার্যক্রম- দলগত পাঠ, লাইব্রেরি ব্যবহার, খেলাধুলা ও শিল্পকলা প্রচলিত করতে হবে। স্কুলগুলোতে স্ক্রিন-হাইজিন নীতি প্রণয়ন করে অনলাইন ক্লাসের সময় ও কন্টেন্ট এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে শিশুদের চোখ ও ঘুমের প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিশ্চিত হয়, আর স্বাস্থ্যখাতে নিয়মিত চক্ষু ও মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত। স্থানীয় প্রশাসন নিরাপদ খেলার মাঠ ও কমিউনিটি পাঠাগার তৈরিতে উদ্যোগ নেবে এবং অভিভাবকদের জন্য ডিজিটাল লিটারেসি প্রশিক্ষণ চালু করলে তারা সন্তানদের অনলাইন ঝুঁকি চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হবে। প্রযুক্তি শিক্ষা ও সৃজনশীলতার জন্য অপরিহার্য, কিন্তু শিশুসুলভ স্বাধীনতা হিসেবে অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন ব্যবহার মেনে নেওয়া যায় না; তাদের চোখ, ঘুম ও মানসিক সুস্থতা রক্ষা করা প্রয়োজন। শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ; তাদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা রক্ষা করা আমাদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। এখনই সক্রিয় না হলে আজকের ভার্চুয়াল অভ্যাস আগামী প্রজন্মকে স্থায়ীভাবে প্রভাবিত করবে, যার ফলাফল হয়ে ভয়ংকর।