আবারও বেড়েছে ডিমের দাম

প্রোটিন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ

এফএনএস
| আপডেট: ১৯ মে, ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম | প্রকাশ: ১৯ মে, ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম
প্রোটিন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ

রাজধানীর বাজারে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম আবারও বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়েছে ২০ টাকা, আর এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৩০-৪০ টাকা। বর্তমানে লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। এ অবস্থায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য প্রোটিনের সহজ উৎস ডিম এখন ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। মাছ ও মাংসের আকাশচুম্বী দামের কারণে সাধারণ মানুষ যে পুষ্টির ঘাটতি পূরণে ডিমের ওপর নির্ভর করতেন, সেই ভরসাও ভেঙে পড়ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন হ্রাস, সরবরাহ ঘাটতি এবং বাজারে উচ্চ চাহিদার কারণে ডিমের দাম বেড়েছে। খামারিরা দীর্ঘদিন ধরে কম দামে ডিম বিক্রি করে লোকসানের মুখে পড়েছেন। ফলে অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খামার বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। বিভিন্ন অঞ্চলে মুরগির রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় অন্তত ২০ শতাংশ খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে উৎপাদনে। অন্যদিকে মাছ, ব্রয়লার মুরগি ও গরুর মাংসের দাম অনেক বেশি হওয়ায় মানুষ প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ডিমের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গিয়ে বাজারে চাপ তৈরি করেছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বেড়েছে। খামার থেকে বাজারে ডিম আনতে অতিরিক্ত ব্যয় ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ ফেলছে। আবার সামপ্রতিক সময়ে বৃষ্টির কারণে নিয়মিত সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটেছে, যা পাইকারি বাজারে দামের ওপর আরও চাপ তৈরি করেছে। সরবরাহ কমে যাওয়ার বিপরীতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় খুচরা ও পাইকারি উভয় বাজারেই দাম বাড়ানো হয়েছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছেন। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারে ডিমের মতো সহজলভ্য প্রোটিনের উৎসও এখন নাগালের বাইরে। শিশুদের পুষ্টি ঘাটতি বাড়ছে, আর পরিবারের খাদ্য ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। আমরা মনে করি, ডিমের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য প্রণোদনা ও ঋণ সহায়তা দিতে হবে, যাতে তারা আবার উৎপাদনে ফিরতে পারেন। খামারে রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং পরিবহন খরচ কমাতে লজিস্টিক সহায়তা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বাজারে সিন্ডিকেট ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণ শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। প্রোটিনের সহজ উৎস যদি মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে পুষ্টিহীনতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াবে। তাই এখনই সময়- পোলট্রি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা, বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের জন্য প্রোটিনের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে