দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫৩ জনে। আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। হাম একসময় নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে বলে ধারণা করা হলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রমাণ করছে, টিকাদান কার্যক্রমে সামান্য ঘাটতিও ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকা গ্রহণে অনীহা, কিছু এলাকায় সচেতনতার অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা। ফলে একটি সংক্রমণ অল্প সময়েই বহু মানুষের মধ্যে বিস্তার লাভ করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো শিশুদের উচ্চ সংক্রমণ ও মৃত্যুহার। পাঁচ ও আট মাস বয়সী দুই শিশুর মৃত্যু শুধু দুটি পরিবারের জন্য শোকের বিষয় নয়; এটি পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম হওয়ায় তাদের সুরক্ষায় টিকাদান কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। সিলেট বিভাগে পরিস্থিতি তুলনামূলক বেশি সংকটাপন্ন হওয়াও বিশেষ গুরুত্ব দাবি করে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ দ্রুত বাড়ছে। এতে চিকিৎসাসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অন্যান্য রোগের চিকিৎসাকেও প্রভাবিত করতে পারে। তাই আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ মেডিকেল টিম, পর্যাপ্ত ওষুধ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন। এক্ষেত্রে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; সামাজিক অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক অভিভাবক এখনও টিকা নিয়ে বিভ্রান্তি বা অবহেলার কারণে শিশুদের নির্ধারিত টিকা সম্পন্ন করেন না। অথচ হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে সংক্রমণ ও মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। বর্তমান বাস্তবতায় প্রয়োজন সমন্বিত ও দ্রুত পদক্ষেপ। টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি ব্যবস্থাও আরও কার্যকর করতে হবে। হামের বিস্তার আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে-জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তায় আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।