সর্বজনীন পেনশন স্কিম

আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

এফএনএস | প্রকাশ: ২০ মে, ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালুর মূল উদ্দেশ্য ছিল বেসরকারি ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত মানুষের বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। উন্নত ও উন্নয়নশীল বহু দেশে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে পেনশনব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। সেই বাস্তবতা থেকেই ২০২৩ সালে দেশে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করা হয়। কিন্তু শুরুতেই যে আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে তা হয়নি। বরং বর্তমানে স্কিমটি জনআস্থার সংকটে পড়েছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় ২১ মাসে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন মাত্র ছয় হাজারের কিছু বেশি মানুষ। একই সঙ্গে বিদ্যমান গ্রাহকদের বড় একটি অংশ নিয়মিত চাঁদা পরিশোধেও অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। এটি শুধু একটি আর্থিক প্রকল্পের ধীরগতির বিষয় নয়; বরং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের প্রতি জনগণের আস্থার ঘাটতির প্রতিফলন। এ সংকটের পেছনে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট। অতীত সরকারের আমলে আর্থিক খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করেছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থ জমা রাখার ক্ষেত্রে অনেকেই নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন। এছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক চাপ বা বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে স্কিমে অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা মানুষের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততার পরিবর্তে অনাস্থা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ‘প্রত্যয় স্কিম’ ঘিরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তবে এটিও সত্য, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য একটি কার্যকর পেনশনব্যবস্থা সময়ের দাবি। সরকারি চাকরিজীবীদের বাইরে অধিকাংশ মানুষই বার্ধক্যে আর্থিক অনিশ্চয়তায় থাকেন। ফলে একটি টেকসই ও স্বচ্ছ পেনশন কাঠামো সামাজিক সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে। এজন্য প্রয়োজন আস্থা পুনর্গঠন। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ যেসব নতুন উদ্যোগের কথা বলছে-যেমন শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালু, নমিনিদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা, কম আয়ের মানুষের জন্য নমনীয় কিস্তি এবং জমার অংশ বিশেষ এককালীন উত্তোলনের সুযোগ-সেগুলো ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, স্বচ্ছ বিনিয়োগব্যবস্থা এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ ধরনের স্কিম কখনোই চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সফল করা যায় না। জনগণকে বোঝাতে হবে যে এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক নিরাপত্তার অংশ। সে জন্য স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং ধারাবাহিক নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের ওপর। আস্থা ফিরলে অংশগ্রহণ বাড়বে, আর অংশগ্রহণ বাড়লেই এটি দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কার্যকর অবদান রাখতে পারবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে