বন্যার শঙ্কায় দিশেহারা হাওরাঞ্চলের কৃষকরা। ইতিমধ্যে কালবৈশাখী, শিলাবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জমির আধাপাকা বোরো ধান নষ্ট হচ্ছে। এখন বন্যার হুঁশিয়ারিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা। কারণ বর্তমানে হাওরাঞ্চলের জমিতে ফসলের যে অবস্থা তাতে সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে চেষ্টা করলেও ৬০ ভাগ জমির ফসল কাটা যাবে। ফলে বন্যা হলে নিশ্চিতভাবে কৃষকের ফসলহানি ঘটবে। চলতি মাসের শুরুতেই ওই অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির ঝুঁকির কথা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাউবো) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো। সেক্ষেত্রে পাউবো কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানায় ঝুঁকি এড়াতে ২৮ এপ্রিলের মধ্যে পাকা বোরো ধান কাটার জন্য। কিন্তু এখখন পর্যন্ত হাওরের প্রায় ৪০ ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে। কৃষক এবং কৃষি বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সিলেট অঞ্চলের দ্রুতই বৃদ্ধি পাচ্ছে সুরমা নদীর পানি। আর নিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে যে কোনো সময় পাহাড়ি ঢল নামতে পারে। তখন নিমিষেই ফুলে-ফেঁপে উঠবে নদীগুলো। সিলেটের সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ দেশের সুবিস্তৃত হাওরাঞ্চলে দেশের মোট বোরো ফসলের সবচেয়ে বড় অংশ চাষ করা হয়। কিন্তু এরই মধ্যে বৈরী প্রকৃতির কারণে বোরো আবাদ নিয়ে কৃষকরা চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে রয়েছে। তার সাথে জ্বলানি তেলের সংকট ও শ্রমিকের উচ্চ মজুরির কারণেও কৃষকের উদ্বেগ বাড়ছে। আর আগাম বন্যার বার্তায় বোরোচাষিরা রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
সূত্র জানায়, বেশিরভাগ হাওরেই এখন পুরোদমে ধান কাটার কাজ চলছে। তবে আকস্মিক বন্যা হলে বোরো ফসল ঘরে তোলা কৃষকের পক্ষে দুষ্কর হবে। বর্তমানে যেসব অঞ্চলে জলাবদ্ধতা রয়েছে, সেখানে ধান কাটতে কৃষকদের বেগ পেতে হচ্ছে। আর যেখানে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে, সেসব এলাকায় পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের সঙ্কট রয়েছে। যদিও কৃষককে জ্বালানি সরবরাহে পাম্পগুলোতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আর শ্রমিকস্বল্পতার কারণে যেসব এলাকায় হারভেস্টার মেশিন নেই সেখানে ধান কাটায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ফলে ডিজেলের স্বল্পতা এবং শ্রমিক সঙ্কটে সময়মতো ধান কাটা নিয়ে কৃষকদের মধ্যে শঙ্কা বাড়ছে। আগে হাওরাঞ্চলে ধান কাটার মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকরা আসতো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে সে প্রবণতা কমে গেছে।
সূত্র আরো জানায়, হাওরের ফসলের মাঠে কোথাও ৬৫ থেকে ৭০ ভাগ ধান পেকেছে। কিন্তু কখনো রোদ, আবার কখনো হঠাৎ বৃষ্টি এমন আবহাওয়া কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে। কারণ ধান শুকানো কঠিন হয়ে পড়ছে। ধান কাটার পর শুকাতে না পারলে গুণগত মান নষ্ট হবে এবং কমে যাবে দামও কমে। যদিও শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক বোরো ধান কাটতে অন্যের থেকে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন ভাড়ায় এনে ধান কাটার কথা ভাবছে। কিন্তু হারভেস্টার মেশিনে ধান কাটতে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন এবং পাওয়ার থ্রেসার মেশিনে প্রতিদিন ডিজেল ১২ থেকে ১৫ লিটার প্রয়োজন হবে। কিন্তু দেশে বিদ্যমান জ্বালানি পরিস্থিতিতে মেশিন দিয়ে ধান কাটতে গিয়ে অনেক কৃষকরা পাম্পগুলো থেকে ডিজেল পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, এবার হাওরাঞ্চলে চৈত্র মাসের শুরু থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। আর অতিবৃষ্টিতে বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। উজানে বৃষ্টি হলে হাওরে পাহাড়ি ঢল নামে এবং নদ-নদীতে পানি বাড়ে।