ক্রমবর্ধমান চাহিদা, মজুত হ্রাস এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে রপ্তানি কমে যাওয়ায় বিশ্ব তেলের বাজার আগামী জুলাই ও আগস্ট নাগাদ ‘রেড জোন’ বা চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় প্রবেশ করতে পারে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার, তিনি জানান, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি খাতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে হরমুজ প্রণালি নিঃশর্তভাবে পুরোপুরি খুলে দেয়াই এখন প্রধান সমাধান। লন্ডনের থিঙ্কট্যাঙ্ক চ্যাথাম হাউসে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমের কারণে তেলের চাহিদা বাড়বে, অথচ বাজারে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের তেল আসছে না।’
ফাতিহ বিরল এই সংকটকে ১৯৭৩, ১৯৭৯ এবং ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আগামী এক বছরের মধ্যে তেল উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিশেষ করে ইরাকের মতো দেশগুলো, যারা বাজেটের জন্য তেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য নতুন করে উৎপাদনে বিনিয়োগ করা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। বিরল আরও বলেন, ‘জ্বালানি খাতের ওপর ভূ-রাজনীতির এত দীর্ঘ ও কালো ছায়া তিনি আগে কখনো দেখেননি।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করলেও তাতে বিঘ্ন ঘটার খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছেন।