সুদূর ইতালির রাস্তায় চরম এক মানবিক সংকটের মধ্যদিয়ে দিনাতিপাত করছেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার টরকী এলাকার সন্তান আরিফ জোমাদ্দার। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বর্তমানে তিনি দেশটির বিভিন্ন শহরের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তীব্র মানসিক বিপর্যস্ততার কারণে চেনা-অচেনা কাউকেই এখন আর ঠিকমতো চিনতে পারছেন না সবার পরিচিত এই যুবক।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আরিফের জীবনের পটভূমি চরম ট্র্যাজেডিতে ভরা। তাঁর বাবা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। বর্তমানে তাঁর বৃদ্ধা মা-ও মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় দিন গুনছেন। জীবনের শেষ মুহুর্তে এসে শয্যাশায়ী আরিফের মা তাঁর কলিজার টুকরো সন্তান আরিফকে একনজর দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে আকুতি জানিয়েছেন।
অপরদিকে আরিফের এমন অসহায় অবস্থার কথা জানতে পেরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন টরকীবাসী। মুমূর্ষ মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ এবং আরিফকে দেশে ফিরিয়ে আনতে তাঁরা ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী ও মিলানে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুেলট জেনারেল বা রোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং সহযোগিতা কামনা করেছেন। তবে এই মানবিক সংকটের মাঝে একটি জটিলতা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইতালিস্থ 'বরিশাল জেলা সমিতি'র পক্ষ থেকে দেওয়া একটি প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আরিফ কোনো অবস্থাতেই এখন দেশে ফিরতে চাচ্ছেন না।
প্রবাসীরা জানিয়েছেন, মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে আরিফ বর্তমানে নিজের ভালো-মন্দ অনুধাবন করার মতো পরিস্থিতিতে নেই। ফলে তাঁর অনিচ্ছার বিষয়টি স্বাভাবিক। কিন্তু দেশে তাঁর মায়ের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায়, বিশেষ মানবিক বিবেচনায় মানবিক কারণে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করা প্রয়োজন। টরকীবাসী ও সচেতন প্রবাসীদের দাবি, বাংলাদেশ দূতাবাস এবং স্থানীয় ইতালিয় সমাজসেবা বা স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আরিফকে প্রথমে দ্রুত চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হোক। পরবর্তীতে সরকারি বা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাকে বাংলাদেশে তাঁর মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি জোরালো অনুরোধ করা হয়েছে।