দেশে মানুষের প্রকৃত আয় ক্রমাগত কমছে, অথচ বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এই বৈপরীত্য সাধারণ মানুষের জীবনকে অসহনীয় করে তুলছে। আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য ভেঙে পড়ায় মানুষ আশাহীন হয়ে পড়ছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণি টিকে থাকার লড়াইয়ে হিমশিম খাচ্ছে, নিম্নবিত্ত শ্রেণি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারছে না। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা। বাজারে চাল, ডাল, তেল, সবজি, মাংস- সবকিছুর দাম বাড়ছে। কিন্তু মানুষের আয় বাড়ছে না, বরং কমছে। ফলে ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পরিকল্পনা। বিদ্যুতের দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ বাড়বে, পরিবহন খরচ বাড়বে, আর শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই সেই বোঝা গিয়ে পড়বে। অর্থাৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে, মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ভার আরও ভারী হবে। এই পরিস্থিতি শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিকভাবেও বিপজ্জনক। আয় কমে যাওয়ায় মানুষের জীবনমান নিচে নেমে যাচ্ছে। কর্মসংস্থান সংকুচিত হচ্ছে, নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। শিল্পোদ্যোগীরা উৎপাদন খরচ সামলাতে পারছে না, ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। বেকারত্ব বাড়ছে, সমাজে অস্থিরতা বাড়ছে। মানুষের হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। সংশ্লিষ্টদের নীতিগত ব্যর্থতা এখানে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নিত্যপণ্যের বাজারে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই, কৃষি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় দুর্বলতা রয়েছে, আর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হলে তা মানুষের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে আশ্বাস দেওয়া যাবে না; মানুষের জীবনে বাস্তব স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা মনে করি, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা এবং মানুষের প্রকৃত আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া অপরিহার্য। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান বাড়াতে নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে হবে। আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে হলে সরকারকে মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তব সংকটকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অর্থনীতির ভারসাম্য ভেঙে পড়লে উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। তাই মানুষের আয় বাড়ানো, খরচ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং মূল্যস্ফীতি কমানো—এই তিনটি পদক্ষেপই এখন সবচেয়ে জরুরি। না হলে সাধারণ মানুষের আশাহীনতা এক ভয়াবহ সামাজিক সংকটে রূপ নেবে।