হাসপাতাল এমন একটি স্থান, যেখানে মানুষ সুস্থতার আশায় আসে। সেখানে যদি বিশুদ্ধ খাবার পানির মতো মৌলিক সেবাও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তবে তা শুধু ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাই নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও গভীর উদ্বেগের বিষয়। নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিশুদ্ধ পানির সংকট সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালে স্থাপিত অধিকাংশ পানির ফিল্টার অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। কোথাও পানির সংযোগ নেই, কোথাও কল ভাঙা, আবার কোথাও ফিল্টার দীর্ঘদিন বন্ধ। ফলে রোগীর স্বজনদের বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বাইরে থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কেউ পাশের মসজিদ থেকে পানি আনছেন, কেউ দোকান থেকে বোতলজাত পানি কিনছেন। একটি সরকারি হাসপাতালে এমন পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে হতাশাজনক। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সংকট সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষকে। যারা চিকিৎসার খরচ সামলাতেই হিমশিম খান, তাদের জন্য প্রতিদিন অতিরিক্ত টাকা খরচ করে পানি কিনে আনা বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গরমের সময় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ অসুস্থ রোগীদের বারবার পানি প্রয়োজন হয়। শিশু, বৃদ্ধ ও দুর্বল রোগীদের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ পানির অভাব আরও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশুদ্ধ পানির সংকট কেবল সেবার ঘাটতি নয়; এটি স্বাস্থ্যঝুঁকিরও কারণ। দূষিত পানি থেকে ডায়রিয়া, পানিবাহিত সংক্রমণসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অনেক সময় কম থাকে। ফলে নিরাপদ পানি নিশ্চিত না করা মানে চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যেই নতুন ঝুঁকি তৈরি করা। দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশের অনেক সরকারি হাসপাতালে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা শোনা গেলেও মৌলিক সেবার মান এখনো প্রশ্নের মুখে। আধুনিক যন্ত্রপাতি কিংবা নতুন ভবনের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, পরিচ্ছন্ন টয়লেট ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রোগীর জন্য মানবিক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জনের বক্তব্য আশাব্যঞ্জক। তিনি সমস্যাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার এবং অচল ফিল্টার দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান হতে হবে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ এবং তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। একটি সরকারি হাসপাতালে বিশুদ্ধ খাবার পানি কোনো বিলাসিতা নয়, এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। তাই ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের এই সংকট দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।