আজ ত্রিশালে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

‘কবি নজরুল মেডিকেল কলেজ’ প্রতিষ্ঠার জোরালো দাবি

এফএনএস (এইচ এম জোবায়ের হোসাইন; ত্রিশাল, ময়মনসিংহ) : | প্রকাশ: ২২ মে, ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম
‘কবি নজরুল মেডিকেল কলেজ’ প্রতিষ্ঠার জোরালো দাবি

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তাঁর বাল্যস্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশাল-এ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় পর্যায়ের বর্ণাঢ্য আয়োজন। এ উপলক্ষে দরিরামপুর নজরুল মঞ্চ, সরকারি নজরুল একাডেমি প্রাঙ্গণ, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শেষ হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি। তিন দিনব্যাপী জাতীয় অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করতে আজ শনিবার ত্রিশালে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি উপজেলার বৈলর ইউনিয়নের ধরার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। যদিও জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী আগামী সোমবার (২৫ মে), তবে ঈদুল আজহার ছুটি বিবেচনায় নিয়ে এবার অনুষ্ঠানসূচিতে আনা হয়েছে পরিবর্তন। সে অনুযায়ী শনিবার (২৩ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হবে তিন দিনব্যাপী আয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে ত্রিশাল। কবির কৈশোর স্মৃতিবিজড়িত এ জনপদে দীর্ঘদিন পর জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠান আয়োজন হওয়ায় উচ্ছ্বসিত স্থানীয় নজরুলপ্রেমী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ।

আয়োজনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি, নজরুলসংগীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্মৃতিচারণ, গ্রামীণ মেলা ও বইমেলা। এছাড়া বিকেলে নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠ ও আশপাশের এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল প্যান্ডেল ও সুসজ্জিত মঞ্চ। আলোকসজ্জা, তোরণ, ব্যানার-ফেস্টুনে নতুন সাজে সেজে উঠেছে পুরো উপজেলা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।


১৯১৪ সালে ভারতের বর্ধমান জেলার আসানসোলের একটি রুটির দোকান থেকে কিশোর নজরুলকে ত্রিশালের কাজীর শিমলা গ্রামে নিয়ে আসেন কাজী রফিজ উল্লাহ দারোগা। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ত্রিশালে অবস্থানকালে কবির কৈশোরের বহু স্মৃতি গড়ে ওঠে এই অঞ্চলে, যা পরবর্তীতে ত্রিশালকে পরিণত করেছে সাহিত্য-সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে। কবির স্মৃতিকে অম্লান রাখতে ২০০৬ সালের ৯মে ঐতিহাসিক বটতলা এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপাশি গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, যা স্থানীয়দের কাছে গর্বের প্রতীক।

বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও বিদ্রোহী চেতনার প্রতীক নজরুল ইসলামের স্মৃতিধন্য ত্রিশাল শুধু একটি উপজেলা নয় এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক আবেগের এক অনন্য নাম। কৈশোরে তিনি দরিরামপুর স্কুলে (বর্তমানে সরকারি নজরুল একাডেমি) অধ্যয়ন করেন। তাঁর সাহিত্যচর্চা ও সৃজনশীল জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মৃতি আজও বহন করছে এ অঞ্চল। এ আয়োজনকে ঘিরে আবারও সামনে এসেছে ত্রিশালবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি “কবি নজরুল মেডিকেল কলেজ” প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি একটি বিমানবন্দর ও ইউপিজেট স্থাপনের দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, প্রায় ১৮ বছর ধরে “কবি নজরুল মেডিকেল কলেজ বাস্তবায়ন কমিটি” এ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায়ে সক্রিয় রয়েছে সংগঠনটি।

কমিটির আহ্বায়ক মোখলেসুর রহমান সবুজ বলেন, “আমাদের আন্দোলনের ফলেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকেও আমরা কবি নজরুলের নামে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা প্রত্যাশা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “ত্রিশালে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু ত্রিশাল নয়, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবে। এটি হবে জাতীয় কবির প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শনের অন্যতম দৃষ্টান্ত।”

কমিটির সদস্য সচিব আ.ন.ম ফারুক বলেন, ত্রিশালে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বদলে যাবে পুরো জনপদের চিত্র। জাতীয় পর্যায়ে এ আয়োজন বাস্তবায়নের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। জাতীয় সংসদে একাধিকবার তিনি ত্রিশালে জাতীয়ভাবে নজরুল জয়ন্তী উদযাপনের দাবি উত্থাপন করেন। তাঁর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই এবার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রিশালে জাতীয় আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়।


জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের অতিরিক্ত পরিচালক রাশেদুল আলম বলেন, “ত্রিশাল জাতীয় কবির স্মৃতিধন্য একটি ঐতিহাসিক জনপদ। কবির কৈশোর ও যৌবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় এখানে অতিবাহিত হয়েছে। তাই নজরুলচর্চা ও তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণে ত্রিশালের গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।”

সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে এসএসএফ, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ধরার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। পরে জাতীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিন দিনব্যাপী আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।” সব মিলিয়ে বহু বছর পর নজরুলময় ত্রিশাল এখন রূপ নিয়েছে এক বিশাল উৎসব নগরীতে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে