সিলেটে নিহত র‌্যাব সদস্য ইমনের স্ত্রীর তিন মাসের সংসারে শোকের ছায়া

এফএনএস (এইচ এম শহীদুল ইসলাম; সিলেট) : | প্রকাশ: ২৩ মে, ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
সিলেটে নিহত র‌্যাব সদস্য ইমনের স্ত্রীর তিন মাসের সংসারে শোকের ছায়া

সিলেটে ছিনতাইকারীকে ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন র‌্যাব-৯ এর সদস্য ইমন আচার্য। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবার ও স্বজনদের মাঝে। মাত্র তিন মাস আগে বিয়ে করেছিলেন ইমন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে স্ত্রী, পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল এলাকা।

নিহত ইমন আচার্যের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আশ্চর্যপাড়ায়। তিনি ওই এলাকার রঞ্জিত আশ্চর্যের কনিষ্ঠ পুত্র। ২০১৮ সালে পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল হিসেবে যোগদান করেন তিনি। পরে ২০২৫ সালে র‌্যাব-৯ এ সংযুক্ত হন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ইমন। প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন আগে গ্রামের বাড়ি থেকে কর্মস্থল সিলেটে ফিরে যান তিনি।

শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালি থানা সংলগ্ন সুরমা নদীর তীরবর্তী চাঁদনীঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ওই এলাকায় কয়েকজন ছিনতাইকারী ও মাদকসেবী মাদক সেবন করছিল। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালালে তারা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় সাদা পোশাকে থাকা র‌্যাব সদস্য ইমন আচার্য পুলিশকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে যান এবং ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পীকে জাপটে ধরেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাপ্পী ধারালো ছুরি দিয়ে ইমনের বুকের বাম পাশে আঘাত করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় ইমনকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত বাপ্পী তোপখানা এলাকার একটি বাসায় ঢ়ুকে পড়ে এবং এক শিশুর গলায় ছুরি ধরে জিম্মি করার চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই রক্তমাখা ছুরিসহ আসাদুল আলম বাপ্পীকে গ্রেফতার করা হয়।

হাসপাতালের মর্গের সামনে নিহত ইমনের স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ইমনের ভাই কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ভগবান আমার ভাইকে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও, আমি কিভাবে থাকবো তাকে ছাড়া?”স্বামীর মরদেহ গ্রহণ করতে ইতোমধ্যে সিলেটে পৌঁছেছেন ইমনের স্ত্রীও।

নিহতের কাকা, পশ্চিম ধলই উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক প্রাণজিৎ আচার্য বলেন, “মাত্র তিন মাস আগে ইমন বিয়ে করেছিল। এত অল্প সময়ের মধ্যে তার স্ত্রীকে বিধবা হতে হলো। কয়েকদিন আগেই সে বাড়ি থেকে সিলেটে গিয়েছিল, হঠাৎ খবর পেলাম সে আর বেঁচে নেই।”

পুলিশ জানায়, আসাদুল আলম বাপ্পী সিলেট নগরীর কাজিরবাজার এলাকার মোগলটুলার আবুল হোসেনের ছেলে। কিশোর বয়স থেকেই সে অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও ছিনতাইসহ অন্তত চারটি মামলা রয়েছে। পুলিশের তালিকাভুক্ত এই অপরাধী দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও ছিনতাই চক্র পরিচালনা করছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ওসি মাইনুল জাকির জানান, ইমন হত্যার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগ দায়েরে বিলম্ব হলে গ্রেফতারকৃত বাপ্পীকে আগের মামলায় আদালতে পাঠানো হবে। পরে হত্যা মামলা দায়ের হলে তাকে সেই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে।

এদিকে র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে ইমনের মরদেহ গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে