প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন- কবি নজরুলের জীবন এবং কর্ম বিশ্ব সাহিত্য দরবারে আরও বেশি ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তার জীবনবোধ, তার জীবন দর্শন প্রজন্মের পর প্রজন্ম পৌঁছে দিতে হবে। এরই অংশ হিসেবে আমাদের জাতীয় কবির স্মৃতি বিজরিত ত্রিশালকে নজরুল সিটি হিসেবে ঘোষণা করা যায় কি-না, এর ব্যাপারে সম্ভাবনাসম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য আমি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং পর্যটন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাব। বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্ত্বা। তিনি আমাদের জাতীয় সত্ত্বার সার্থক প্রতিনিধি। আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক, আমাদের জাতীয়তাবাদের প্রতীক। জাতীয় কবির জন্মদিনে আমরা অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র ও বিপদের গ্লানি মুছে ফেলি। সবার আগে বাংলাদেশকে ধারণ করি।’ শনিবার (২৩ মে) বিকাল ৪ টা বেজে ৩৫ মিনিটে ময়মনসিংহের ত্রিশালের সরকারী নজরুল একাডেমী মাঠের নজরুল মঞ্চে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আগামী ২৫ মে বাংলাদেশের জনগণের পরম প্রিয়জন কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭ জন জন্মবার্ষিকী। তাঁর চীর অম্লান স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছি। ২০০৬ সালের পর থেকে জাতীয় কবির অমর স্মৃতি বিজড়িত ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে নজরু জয়ন্তী উদযাপন হয়নি। প্রায় দু দশক পর আজ পূণরায় রাষ্ট্রীভাবে জাতীয় কবির জন্ম জয়ন্তী আয়োজন করতে পেরে সরকার গৌরব বোধ করছে। এ অনুষ্ঠানে অনেকে হয়তো একটি নামের সাথে পরিচিত আমি এ রকম একটি মানুষকে গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করতে চাই, তিনি ছিলেন মরহুম দারোগা রফিজ উল্লাহ। এই মানুষটি ১৯১৪ সালে কবি নজরুল ইসলামকে ত্রিশালের কাজির শিমলা গ্রামে নিজ বাড়িতে এনে আশ্রয় দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যদি আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ কিংবা বরণ করতে না পারি এটি তাদের নয় বরং জাতি হিসেবে আমাদেরই দৈন্যতা প্রকাশ পায়। এ প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেন না। ১৯৭৬ সালে ঢাকার শেরে বাংলা উদ্যানে জাতীয় কবির নামাজে জানাজার পর কবির লাশবাহী খাটিয়া যারা কাঁধে করে বহন করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৯ সালের ২৫ মে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকার ফার্মগেট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবির মাজার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত একটি র্যালিতেও অংশ নিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ত্রিশালে জাতীয় কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এভাবে জাতির কবির প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা এবং সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে কাউকে সম্মান জানালে নিজের সম্মান নষ্ট হয় না বরং বিনয় মানুষকে মহিমান্বিত করে। আমি মনে করি এইসব কালজয়ী আদর্শ থেকে দূরে চলে যাওয়ার কারণেই বর্তমানে আমাদের সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় দৃশ্যমান।
নজরুল জন্মজয়ন্তী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন ত্রিশালের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান ও স্মারক বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কবিপৌত্রি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান খিলখিল কাজী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মো. লতিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন, জামালপুরের এমপি শাহ ওয়ারেস আলী মামুন, ময়মনসিংহ-৪ আসনের এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫ আসনের এমপি জাকির হোসেন বাবলু, গফরগাঁওয়ে এমপি আকতারুজ্জামান বাচ্চু, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন প্রমূখ। পরে বিকেল ৫টায় ত্রিশালের নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগদান করবেন তিনি।
সূত্র জানায়, দীর্ঘ দুই দশক পর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী জাতীয় পর্যায়ে উদযাপন উপলক্ষে ত্রিশালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় তিনদিন ব্যাপী নজরুল মেলা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। এ বছর এ উদযাপনের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে 'দ্রোহের কবি, প্রাণের কবি নজরুল'। এদিকে প্রধানমন্ত্রী আগমনকে ঘিরে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সাদা পোশাকের পাশাপাশি ইউনিফর্ম পড়ে পুলিশ সদস্য সেনাবাহিনী ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।