তানোরে

জমিতে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে ৭ গরু ও ২ শিয়ালের মৃত্যু

এফএনএস (সাইদ হোসেন সাজু; তানোর, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ৫ জুন, ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
জমিতে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে ৭ গরু ও ২ শিয়ালের মৃত্যু

রাজশাহীর তানোরে জমিতে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে ৭ গরু ও ২ শিয়ালের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১০ টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে তানোর চৌবাড়িয়া সড়কের কামারগাঁ ইউপির লবাতলা ব্রীজের দক্ষিন পূর্ব কোনের জমির মাঠে। এঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার বিকালে এরিপোর্ট লিখার সময় গরু গুলো ঘটনাস্থলে মাঠেই পড়ে ছিলো। এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে প্রচন্ড বৃষ্টি ও ঝড়ে (পিডিপি) নেসকো' থেকে লবাতলা ব্রীজের পূর্বদিকের জমির মাঠে মধ্যে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপকের ১টি গভীর নলকূপে দেয়া সংযোগের তার ছিড়ে মাটিতে পড়ে ছিলো যা কেউ লক্ষ করেননি।  মরে যাওযা এক গরুর মালিক সোমাশপুর গ্রামের মফিজ উদ্দিনের পুত্র মোজাফফর হোসেন বলেন, শুক্রবার সকালে প্রতিদিনের ন্যায় তালন্দ, হরিদেবপুর ও সোমাশপুর এলাকার নারী পুরুষরা তাদের বাড়িতে লালন পালন করা গরু নিয়ে ওই মাঠে ঘাষ খাওয়ানোর জন্য নিয়ে ছেড়ে দিয়ে তারা তানোর চৌবাড়িয়া সড়কের উপর অবস্থান করছিলেন। এসময় হঠাৎ তারা দেখতে পান একের পর এক গরু পড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এসময় আমরা সঙ্গে সঙ্গে কাছে গিয়ে দেখি বিদ্যুতের ছিড়ে যাওয়া তার মাটিতে পড়ে আছে। ওই তারে জড়িয়ে গরু মরে পড়ে আছে। এসময় বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দেয়া হলে বিদ্যুৎ বন্ধ করা করা করা হয়। তবে, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কেউ শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত সেখানে আসেননি এবং মরে যাওয়া গরু গুলো মাঠেই পড়ে ছিলো। তবে, সকালে খবর পেয়ে তানোর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে গরুর মালিকদের নাম ঠিকানা নিয়ে গেছে। 

সোমাশপুর গ্রামের মতিউর রহমান নামের প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, এঘটনায় তালন্দ গ্রামের ইসলামের পুত্র মনজুর রহমানের ১টি গাভী গরু যার মুল্য প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা দাম হবে। তিনি বলেন, এই গাভীটির ১২ দিনের বাছুর হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আরো ৩টি গাভী ভরন অবস্থায় ছিলো। সুমাসপুর গ্রামের মফিক উদ্দিনের পুত্র মোজাফফর হোসেনের ১টি গাভী গরু যার মুল্য প্রায় ৯০ হাজার টাকা, হরিদেবপুর রমনী কান্তের স্ত্রী সুধা রানী ১টি গাভী যার মুল্য ৮৫ হাজার টাকা, হরিদেবপুর জিতেন চন্দ্র ১টি গাভী যার মুল ৯০ হাজার হরিদেবপুর গ্রামের গীতা রানীর ১টি গাভী যার মুল্য ১ লাখ টাকা এবং একই গ্রামের সুনীলের স্ত্রী চোকু রানীর ২টি গাভী যার মুল্য প্রায় ২ লাখ টাকারও বেশী মারা যায়। অপর দিকে ২টি বন্য শিয়ালও সেখানে মরে পড়ে থাকতে দেখা যায়।  এবিষয়ে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তানোর জোনের সহকারী প্রকৌশলী নাইমুল ইসলাম বলেন, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নেসকোর একজন গ্রাহকমাত্র এখানে আমাদের কিছু করার বা বলার নাই বলেও জানান তিনি। 

এব্যাপারে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে (পিডিপি) নেসকোর তানোর অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী অমিত হাসান বলেন, প্রাকিতিক দূর্যোগে ঘটা এমন ঘটনার বিষযে কেউ আমাদেরকে জানায়নি। সকালে গরু মারা যাওয়ার পর আমরা খবর পেয়ে লাইন বন্ধ করে দিয়েছি। তিনি বলেন, ঘটনাটি একদম নির্যন এলাকা মানে ফাঁকা মাঠে, ওই স্থানে আমাদের কোন আবাসিক গ্রাহক নেই। ঝড়ের পর আমরা সতর্কঅবস্থায় বিবিন্ন এলাকার প্রতিনিয়তই খোঁজ খবর রাখি। ঝড়ের পর যদি কেউ জানাতো তাহরে হয়তোবা এমন ঘটনা ঘটতোনা বলেও জানান তিনি।  এব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাঈমা খান বলেন, আমি শুনেছি, ঘটনাস্থলে যাচ্ছি, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, যদি কারো গাফলতিতে এমন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে