দৌলতপুরে বালুমহল দখল নিয়ে বন্দুক যুদ্ধে নিহত ১

এফএনএস (মোঃ সাইফুল ইসলাম শাহিন; দৌলতপুর, কুষ্টিয়া) :
| আপডেট: ১০ জুন, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম | প্রকাশ: ১০ জুন, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
দৌলতপুরে বালুমহল দখল নিয়ে বন্দুক যুদ্ধে নিহত ১

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মরিচার হবির চর সহ কুষ্টিয়া,  পাবনা, নাটোর ও রাজশাহীর বিস্তীর্ণ পদ্মার চরাঞ্চল এখন একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ।  বালুঘাট দখল, চরাঞ্চলের ফসলি জমি নিয়ন্ত্রণ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এসব বাহিনীর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এসব বাহিনীর হাতে একে-৪৭-এর মতো আগ্নেয়াস্ত্রসহ ভারী অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল দুপুরের দিকে এক বন্দুকযুদ্ধে কাঁকন বাহিনীর সদস্য ও কথিত ম্যানেজার আজিজুল হক ঝড়ু (৩৫) নিহত হয়। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর বাঘা এলাকার মণ্ডল বাহিনীর বিল্লাল ও মুনতাজ মণ্ডল, পাবনার ঈশ্বরদীর কাঁকন বাহিনী এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের নাহারুল বাহিনী সহ একাধিক সশস্ত্র গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে পদ্মার বিভিন্ন চরাঞ্চলে সক্রিয়। প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া ও গুলির মাধ্যমে এসব বাহিনী নিজেদের আধিপত্য জাহির করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গতকাল দুপুরের দিকে রাজশাহীর বাঘা এলাকার মণ্ডল বাহিনী এবং পাবনার ঈশ্বরদীর কাঁকন বাহিনীর মধ্যে নদী ও দুর্গম চরে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে শতাধিক গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে।  বালু উত্তোলন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দ হাজার মৌজার হবির চর এলাকা থেকে বাঘার আলাইপুর চর পর্যন্ত উভয় পক্ষের এই বন্দুকযুদ্ধ হয়।এ ঘটনায় কাঁকন বাহিনীর সদস্য ও কথিত বালুমহালের ম্যানেজার আজিজুল হক ঝড়ু (৩৫) নিহত হয়। গুলিতে নিহত আজিজুল হক ঝড়ু নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার আব্দুল শেখের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সংঘর্ষে আরও কয়েকজন আহত হলেও তাঁদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পরে নাটোরের লালপুর উপজেলার চরজাজিরা মৌজা এলাকার পদ্মা নদী থেকে একটি স্পিডবোটে থাকা মরদেহ উদ্ধার করে পাবনার ঈশ্বরদীর লক্ষ্ণীকুণ্ডা নৌ পুলিশ। উদ্ধারকালে মরদেহটির মাথায় গুলির চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছে নৌ পুলিশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পদ্মার চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গ্রুপগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত চললেও কার্যকর অভিযান ও স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত অস্ত্র ব্যবহার করে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ অক্টোবর দুপুরে পদ্মার চরের কাশবনের জমি দখলকে কেন্দ্র করে কাঁকন ও মণ্ডল গ্রুপের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় মণ্ডল গ্রুপের দুজন এবং কাঁকন বাহিনীর এক সদস্য নিহত হন। এ বিষয়ে ঈশ্বরদীর লক্ষ্ণীকুণ্ডা নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শফিকুল ইসলাম বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নাটোরের লালপুর থানা এলাকার পদ্মা নদী থেকে একটি স্পিডবোটে থাকা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, মরিচা ইউনিয়নের হবির চর থেকে শুরু করে বাঘার আলাইপুর চর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। কতটি গুলি ছোড়া হয়েছে, তা নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়। সন্ত্রাসীরা আধুনিক ভারী অস্ত্র, বিশেষ করে একে-৪৭ রাইফেল ব্যবহার করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।এ দুর্গম চরাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন  রয়েছে বলে জানা গেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে