প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিকিৎসার নানাবিধ সংকট ও জটিল প্রক্রিয়াগুলোর সফল ফলো-আপ এবং উন্নত ডকুমেন্টেশনের জন্য চিকিৎসা বিষয়ক চলচ্চিত্র নির্মাণে ডাক্তারদের নিজস্ব সম্পৃক্ততা ও আগ্রহ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘একজন চলচ্চিত্র নির্মাতাকে চিকিৎসা বিদ্যা শেখানোর চেয়ে একজন চিকিৎসককে চলচ্চিত্রের প্রাথমিক বিষয়গুলো শেখানো তুলনামূলক সহজ। এর মাধ্যমে বাস্তবসম্মত ডকুমেন্টারি ফিল্ম তৈরি করা সম্ভব।’
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে ‘বিশেষ শ্রেণির চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রদর্শন এবং এর মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি, সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘ভৌগোলিক বা ডিসকভারি চ্যানেলে আমরা প্রায়ই দেখি বিভিন্ন জটিল রোগের ফলো-আপ এবং চিকিৎসার নিখুঁত প্রক্রিয়াগুলো অত্যন্ত সুন্দরভাবে ডকুমেন্টারি আকারে তুলে ধরা হয়। আমাদের দেশেও এ ধরনের কাজের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। চিকিৎসকরা যদি চলচ্চিত্রের বেসিক আইডিয়াগুলো রপ্ত করতে পারেন, তবে তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে অনেক মানসম্পন্ন প্রামাণ্যচিত্র তৈরি সম্ভব, যা সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘জরুরি মুহূর্তে মানুষের জীবন বাঁচানোর প্রাথমিক সুযোগটি কিন্তু চিকিৎসকদের চেয়ে সাধারণ মানুষের হাতেই বেশি থাকে। উন্নত বিশ্বেও তাৎক্ষণিকভাবে ডাক্তার পৌঁছানো সম্ভব হয় না। তাই এই জীবনরক্ষাকারী ট্রেনিংগুলো সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।’
তিনি আরো বলেন, সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী এবং বাজেট সংক্রান্ত কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি তিনি এ ধরনের জনবান্ধব ও সচেতনতামূলক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
তিনি চিকিৎসকদের এই সৃজনশীল উদ্যোগের সাথে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা বজায় রাখার আশ্বাস দেন।