মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে ইরানের পাল্টা আঘাত, হরমুজে উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশ: ১১ জুন, ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে ইরানের পাল্টা আঘাত, হরমুজে উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস, আইআরজিসি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজে হামলা এবং নৌ চলাচলে নতুন বিধিনিষেধের কথাও জানিয়েছে তেহরান। আল জাজিরা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

আল জাজিরা জানায়, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড, সেন্টকম, দাবি করেছে, ইরানের সামরিক অবকাঠামো ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং তাদের বাহিনীর সুরক্ষার স্বার্থেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।

এর জবাবে আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটি, কুয়েতের আলী আল সালেম ও আহমেদ আল জাবের বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে জর্ডানের আল আজরাক বিমানঘাঁটিতে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবিও করেছে তারা। আইআরজিসির দাবি, সেখানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আইআরজিসি অঞ্চলজুড়ে মোট ১৮টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করেছে। বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানের পাশাপাশি মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু স্থাপনাও তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিকেও ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান দাবি করেছে, অবৈধভাবে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করায় দুটি ট্যাংকার জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল সীমিত রাখার কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি। ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবরে কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক এবং কারগান শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর এসেছে। কারগানে অন্তত দুজন আহত হওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।

অন্যদিকে আল জাজিরা জানায়, ইরানের হামলার পর কুয়েত সাময়িকভাবে নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করলেও পরে তা আবার খুলে দেওয়া হয়েছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিহত করা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি ১১ বছর বয়সী মেয়ে সামান্য আহত হয়েছে এবং কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সাম্প্রতিক এই সংঘাতের পেছনে কয়েক দিনের ধারাবাহিক উত্তেজনা কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ শুরু হয়। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির কথা বললেও দ্রুত সমঝোতা না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। ইরান অবশ্য এমন চাপকে প্রত্যাখ্যান করে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার অবস্থান নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত কেবল দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। হরমুজ প্রণালি, উপসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে এই উত্তেজনা সরাসরি জড়িয়ে রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে