এলডিসি উত্তরণে আরও সহায়তার আহ্বান বাংলাদেশের

এফএনএস প্রতিবেদক: | প্রকাশ: ১১ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
এলডিসি উত্তরণে আরও সহায়তার আহ্বান বাংলাদেশের
ছবি, সংগৃহীত

জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াকে টেকসই ও মসৃণ করতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আরও সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ইউএনডিপি, ইউএনএফপিএ ও ইউএনওপিএসের নির্বাহী বোর্ডের বার্ষিক অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এ আহ্বান জানান।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণে রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অর্থায়ন দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, চলতি বছরের জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্থিতিশীল, অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক শাসনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউএনডিপির ‘ব্যালট প্রকল্প’-এর অবদানও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি নবনির্বাচিত সরকারের সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং আইনের শাসন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউএনডিপির সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

রাষ্ট্রদূত নোমান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, বন্যা, খরা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতি, কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা এবং জনজীবনের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে।

বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার বিস্তার কৃষি উৎপাদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, অন্যদিকে জলবায়ুজনিত দুর্যোগের কারণে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিযোজন ও সহনশীলতা বৃদ্ধির জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন বৃদ্ধি জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর আহ্বান

বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল যেমনস বুজ জলবায়ু তহবিল  (জিসিএফ) এবং বৈশ্বিক পরিবেশ সুবিধা (জিইএফ)-সহ বিভিন্ন বৈশ্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার সহজতর করতে ইউএনডিপির কারিগরি সহায়তা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জলবায়ু অভিযোজন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থায়ন নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে প্রকল্প প্রণয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক তহবিল সংগ্রহে ইউএনডিপির সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

এলডিসি উত্তরণে সহায়তার ওপর গুরুত্ব

বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণের পথে রয়েছে। এ উত্তরণকে টেকসই ও মসৃণ করতে বাণিজ্য সুবিধা, প্রযুক্তি স্থানান্তর, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে