দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে ধারাবাহিক রফতানি পতন উদ্বেগজনক। বিজিএমইএ সমপ্রতি জরুরি বৈঠকে এ সংকটের কারণ খুঁজে দেখার পাশাপাশি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে একটি ‘চার্টার অব পলিসি সাপোর্টস’ সরকারের কাছে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৈঠকে উঠে এসেছে, এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর নীতিগত সুবিধা এবং নতুন বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজিএমইএ জানিয়েছে, চার্টারে ভারতের পাশাপাশি ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনামূলক অবস্থান বিশ্লেষণ করা হবে। এতে প্রতিযোগী দেশগুলোর সুবিধা ও নীতিগত সহায়তার চিত্র তুলে ধরে বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতা ও ঘাটতিগুলো স্পষ্ট করা হবে। সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেছেন, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও রফতানি সমপ্রসারণে সহায়ক নীতিমালা গ্রহণ অপরিহার্য। আমাদের মতে, তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রথমত, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে শুল্ক সুবিধা হারানোর ঝুঁকি মোকাবিলায় বিকল্প বাজার ও বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিযোগী দেশগুলোর মতো অবকাঠামো উন্নয়ন, লজিস্টিক সুবিধা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, উৎপাদন ব্যয় কমাতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে স্থিতিশীলতা আনতে হবে। চতুর্থত, নীতিগত স্বচ্ছতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া এই খাতকে টেকসই করা সম্ভব নয়। আমাদের প্রত্যাশা, সরকার দ্রুত বিজিএমইএর প্রস্তাবিত চার্টার বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী নীতিগত সহায়তা দেবে। তৈরি পোশাক শিল্প শুধু দেশের রফতানি আয়ের প্রধান উৎস নয়, বরং কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি। তাই এই খাতের সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ এখনই নিতে হবে।