রাজশাহী পুঠিয়ায় পুকুর সংস্কার করার নামে খননের মাটি বিক্রি করে উপজেলা প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের পকেট ভারি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এদিকে খননের মাটি সড়কে পরিবহন করতে গিয়ে গ্রামঞ্চলের কোটি কোটি টাকা মূল্যে সড়ক নষ্ট হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে সমঝোতা করে দিন-রাত সংস্কারের নামে প্রায় ১৫টি স্থানে খননের কাজ চলছে। উপজেলা প্রশাসনের নিকট কোনো ব্যক্তি অভিযোগ দিলে এস্কেভেটরের (ভেকুর) ব্যাটারি খুলে আনতে দেখা যায়। পরবর্তি সময়ে দুই/একদিনের ভেতর আবার মোটা অংকের টাকার সমঝোতা করে ব্যাটারি দিয়ে দেওয়া হয় বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন নাকের ডগায় প্রকাশ্যে প্রতিনিয়ত জমির শ্রেনী পরিবর্তন করে পুকুর খনন করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন কোনোরকম কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করছে না। অবশ্য মাঝেমধ্যে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে পুকুর খননের বিরুদ্ধে জরিমানা আদায় করছে। এলাকাবাসীরা বলছেন, যা জরিমানা করা হচ্ছে তা আবার অতি সামান্য পরিমাণ টাকা। অতীতে এবং বর্তমানে যে পুকুর খনন করা হয়েছে। তার বেশিরভাগ জমি খাজনা আদায় হচ্ছে ধানী কিংবা ভিটা শ্রেনি হিসাবে। এতে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব হতে বঞ্চিত হচ্ছে। শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের ইয়াছিন আলি বলেন, আগে আ.লীগের নেতারা পুকুর খননের কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে লাখ লাখ টাকা আয় করে ছিল। এখন বিএনপির কিছু নেতারা করছে। পুকুর খননকারী দালালদের নিকট মানুষ জিম্মি হয়ে পরেছেন। সংশ্লিষ্ট স্থানীয়রা বলছেন, মাটি বিক্রির অনেক টাকা লেনদেনের হওয়ার কারণে,পুকুর সংস্কারের কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না। আবুল জাব্বার বলেন, ক্ষমতাসীন দলের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির অনুসারীর নেতাকর্মীরা উপজেলা জুড়ে পুকুর সংস্কার নামে ইটভাটা এবং নীচু স্থান পুরণ করার মাটি বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। তাই উপজেলা প্রশাসনকে অভিযোগ দিয়ে সাধারণ মানুষ কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। টাকা এবং ক্ষমতার জোরে সবকিছু করা সম্ভব হচ্ছে। অপদিকে পুকুর খননের মাটি পরিবহন করতে গিয়ে গ্রামঞ্চলের কোটি কোটি টাকা মূল্যে সড়ক নষ্ট হচ্ছে।
যে স্থানগুলোতে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে: শিলমাড়িয়া ইউনিয়ন দিয়াড়পাড়া,হোসেনের বটতলা,চন্দনমাড়িয়া পূর্বপাড়া,আমঘোষপাড়া,জিউপাড়া ইউনিয়নের বারোপাকিয়া,সৈয়দপুর গ্রামে পুরাতন পুকুর সংস্কারের নামে চলছে মাটি বিক্রি করা ফলে গ্রামের সড়কসহ ঝলমলিয়া মিনি বিশ্ব রোড় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে,সেনবাগ নামক স্থানে মহাসড়কে ব্যবহার করে পুকুর সংস্কারের নামে মাটির বিক্রি করা হচ্ছে। উজলপুর গোরস্থানের নিকটে পুরাতন পুকুর সংস্কারের নামে মাটি বিক্রি ও শাহবাসপুর পুরাতন পুকুর সংস্কার করে স্কুলের মাঠ ভরাটের নামে বিভিন্ন জায়গায় মাটি বিক্রির, ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নের চকদুর্ভপুর, বেলপুকুর ইউনিয়নের মাহিন্দ্রা পুকুর সংস্কার বিশাল আমগাছ কেটে ফেলে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে।
যে এলাকাগুলোতে পুকুর খনন হচ্ছে,সে এলাকার সড়কের বেহালদশা দেখা দিয়েছে। শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের বাসুপাড়া হতে মোল্লাপাড়া বাজারে যাওয়ার পথে মাটি পরিবহন করায় সড়কে এক হাঁটু কাঁদা পানি জমা হয়ে আছে। আবার দেখা গিয়েছে, উপজেলা হতে পুকুর সংস্কার করার অনুমতি নিয়ে পুরাতন পুকুর যা ছিল তার পাশে দ্বিগুণ তিন ফসলী জমির মাটি কেটে পুকুর করা হচ্ছে। যেভাবে মাটি কাটা চলছে,এক সময় এই ইউনিয়নে কোনো ফসলি জমি থাকবে না। উপজেলার একাধিক স্থানে নদী-নালা খাল-বিলের পানি পারাপারের স্থলে পুকুর খনন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, যে পুকুরগুলো সংস্কার করা হচ্ছে। তার বেশিরভাগ অনুমোদিত। রাস্তাঘাট নষ্ট করা হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।