পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার বৃহত্তর বালিপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত বালিপাড়া ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে একটি একাডেমিক ভবনের অভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় বিদ্যালয় কর্তৃপকে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষার মান তিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষক , শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টি ১৯৩৯ সালে স্থাপিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে তিন শতাধিক ছাত্র/ছাত্রী এবং ২০জন শিক্ষক/কর্মচারী রয়েছে। বিদ্যালয়েটিতে লাইব্রেরি,ছাত্র-ছাত্রীদের কমনরুম,স্কুলের ভাউন্ডারি,ওয়াশব্লক সহ পর্যাপ্ত শ্রেণিকরে অভাব রয়েছে।। এই অভাবের কারনে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানও তিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও বর্ষাকালে সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করে জানা যায়।
শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম ও মুবিন আহম্মেদ জানান, শ্রেণিকরে স্বল্পতার কারণে গাদাগাদি করে ক্লাস করতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। আমাদের একটি নতুন ভবন খুবই প্রয়োজন । অন্যদিকে একাধিক শিকরা জানান, প্রয়োজনীয় করে অভাবে সুষ্ঠুভাবে পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। অভিভাবক আবুল কাসেম জানান, এই বিদ্যালয়ে দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানাই। যাতে স্কুলের ছেলেমেয়েরা সুন্দর করে লেখাপড়া করতে পারে । বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বাবুল জানান, এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামো থেকে অবহেলিত রয়েছে। একটি আধুনিক ও পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবন নির্মিত হলে শিক্ষা র্থীরা ভালো পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে । বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ কবির হোসেন জানান, আমার প্রতিষ্ঠানে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত । শিক্ষার্থীদের ঠিকমত বসতে দিতে পারছি না, কিভাবে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ঠিকমত পাঠদান দিবে। ছোট একটি ১(এক)তলা বিশিষ্ট পাকা ভবন আছে সেই ভবনটি অনেক পুরন হওয়ায় ভবন থেকে দিন দিন পেলেস্তার খুলে পড়ে আমরা ও শিক্ষার্থীরা আতঙ্গে থাকি । বর্তমানে ক্লাস নিতে খুবই কষ্ঠ হচ্ছে, তাই সরকারের কাছে জরুরী ভিত্তিতে একটি নতুন পাকা ভবনের দাবি জানাচ্ছি। বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ শাহিদুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়টি ১৯৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি এলাকার শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছে। তবে বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পাকা ভবন না থাকায় শিক্ষার্থীদের টিনের ছাউনির নিচে ক্লাস করতে হচ্ছে। বর্তমান তীব্র গরমে এতে শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে এবং অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি পাকা ভবন নির্মাণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানাই।