ঝিনাইদহের শৈলকুপার ১০ নম্বর বগুড়া ইউনিয়নে চলতি ২০২৫- ২০২৬ অর্থ বছরে টি আর কাবিটা কাবিখার প্রথম পর্যায়ের কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ উপজেলা ও জেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করেছে। লিখিত অভিযোগে জানা গেছে ইউনিয়নের বারুই হুদা আলমের বাড়ি হতে বাটুলের বাড়ি অভিমুখে মাটি দিয়ে রাস্তা সংস্কার কাজের জন্য ২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, বগুড়া পশ্চিম পাড়া রমিজ বিশ্বাস এর বাড়ি হতে আব্দুল সালাম এর বাড়ি অভিমুখে মাটির রাস্তা সংস্কারের জন্য ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল সরকার। গ্রামীণ এসব রাস্তা সংস্কারের কাজের জন্য ( দৈনিক মজুরি ) লেবার দিয়ে কাজ করার নিয়ম থাকলেও এই কাজে তা না করে ভেকু মেশিন দিয়ে নামে মাত্র কাজ করে বাকি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ। এদিকে নাগিরাট প্রধানসড়ক হতে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ অভিমুখে রাস্তা মেকাডম কাজে ৩লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আলফাপুর বড় ব্রীজ হতে আহম্মদ বিশ্বাসের বাড়ি পর্যন্ত মেকাডাম করার জন্য ৩লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এসব রাস্তা নিন্ম মানের ইটের খোয়া দিয়ে কাজ করা হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে এসব কাজের প্রকল্পের পিআই সি রা জানার আগেই কাজ শেষ হয়েছে। কাজের পিআইসিরা অভিযোগ করে বলেন ১০ নং বগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর ও ইউপি সদস্য মদন কুমার এই কাজ দেখভাল করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদে পরিষদের মেম্বারদের নিয়ে একটি মিটিং করে কাগজপত্রে সই করে নেন। তবে এসব প্রকল্পে কবে টাকা উত্তোলন হয়েছে তারা কিছুই জানেন না। তারা অভিযোগ করে বলেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক শৈলকূপা উপজেলা যুব উন্নয়নের কর্মকর্তা সেলিম জাহাঙ্গীর পরিষদের মদন কুমার নামের এক মেম্বার দিয়ে এসব কাজ শেষ করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই ব্যাপারে আলফাপুর শামীম মোল্লার বাড়ি হতে তোফাজ্জল বিশ্বাসের বাড়ি পর্যন্ত ম্যাকাডোম কাজের প্রকল্পের পিআইসি নয়ন মিয়া জানান, এই রাস্তায় চার লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল সরকার কিন্তু এই প্রকল্পের সভাপতি আমি, আমিই জানিনা কাজ কবে শেষ হয়েছে কিভাবে শেষ হলো। আমি প্রশাসকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আপনি চুপ থাকেন কাজ মদন কুমার দেখাশোনা করছে। একই কথা বলেন রবিউল ইসলাম নামের আরেক প্রকল্পের সভাপতি বলেন, যে কোন প্রকল্পের সভাপতিরায় জানে না তাদের প্রকল্পের কাজ কবে শেষ হয়েছে। প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন মদন কুমারের দিয়ে নামে মাত্র কাজ করে এসব প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে ১০ নম্বর বগুড়া ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি আব্দুল আউয়াল বিশ্বাস জানান, এসব কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। আমরা কাজ ঠিকমতো করার কথা বললেও ইউনিয়নের প্রশাসক সেলিম জাহাঙ্গীর সেটা কর্ণপাত করিনি। নামে মাত্র কাজ করে বাকি টাকা সে ইউপি সদস্য মদন কুমারের মাধ্যম দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে। প্রকল্পের এসব কাজের অনিয়মের সুষ্ট তদন্ত করার জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ১০ নং বগুড়া ইউনিয়নের প্রশাসক যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সেলিম জাহাঙ্গীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রকল্পের সভাপতি রায় কাজ করেছে। আমি কেন করবো। এখানে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যাপার থাকে আমার সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এ ব্যাপারে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিউটন বাইন বলেন কাজের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী একটি অভিযোগ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দিয়েছে। তবে এসব প্রকল্পের সভাপতিদের কাজ করার জন্য ইতিমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে শতভাগ কাজ করে নেয়ার জন্য চেষ্টা করছি।