কুড়িগ্রামে বিশ্ব শরণার্থী দিবস পালিত

এফএনএস (মাহফুজ খন্দকার; কুড়িগ্রাম) : | প্রকাশ: ২০ জুন, ২০২৬, ০৮:১০ পিএম
কুড়িগ্রামে বিশ্ব শরণার্থী দিবস পালিত

“সবার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামে বিশ্ব শরণার্থী দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে স্পিরিট প্রকল্পের আওতায় টেরে ডেস হোমস ও সলিডারিটির উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন এলাকায় শিশু ও যুব-কেন্দ্রিক নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শনিবার (২০ জুন) কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর ও চিলমারী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে শিশু, যুবক যুবতী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বাস্তুচ্যুতি, নদীভাঙন ও বন্যাজনিত ঝুঁকি, শিশু ও যুবদের নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উত্তরাঞ্চলের নদীবিধৌত এলাকাগুলোতে প্রতিবছর অসংখ্য পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। এসব পরিবারের নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবিকার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল শিশু সংলাপ, অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা, যুব প্রচারাভিযান, সচেতনতা র‌্যালি, নিরাপদ কমিউনিটি মানচিত্রায়ন এবং ক্রীড়া কার্যক্রম। এসব আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করেন এবং দুর্যোগকালীন নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতামত দেন। পাশাপাশি বন্যা ও নদীভাঙনের সময় করণীয় বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় নদীভাঙন ও বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পরিস্থিতি, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী শনাক্তকরণ, আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যুবসমাজের সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, দুর্যোগ ও বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকিতে থাকা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ, যুব নেতৃত্বের বিকাশ এবং সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। সচেতনতা বৃদ্ধি ও সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও সহনশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। কর্মসূচির সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারীরা একসঙ্গে অঙ্গীকার করেন, সবার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা একসঙ্গে কাজ করবো। বিশ্ব শরণার্থী দিবসের এই আয়োজন কমিউনিটি পর্যায়ে মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং নিরাপদ ভবিষ্যৎ গঠনে যুবসমাজের ভূমিকার গুরুত্ব নতুন করে তুলে ধরেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে