আগামী ২৮ জুন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় রাজশাহী বিভাগের ২৭ লাখ ৩ হাজার ১২৭ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে আয়োজিত অবহিতকরণ ও কর্মপরিকল্পনা সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চলমান হাম সংক্রমণের জটিলতা ও মৃত্যুহার কমাতে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধিরা জানান, ভিটামিন ‘এ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক উপাদান, যা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সকল শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করা গেলে হামসহ বিভিন্ন রোগের জটিলতা এবং মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
সভায় আরও জানানো হয়, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন একটি নিয়মিত কর্মসূচি হলেও দীর্ঘ বিরতির কারণে এবার এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সম্প্রতি হাম সংক্রমণে জটিলতা ও মৃত্যুহার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দীর্ঘ সময় এ কর্মসূচি বন্ধ থাকাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ কারণে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন- পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান। সভায় বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং ইউনিসেফের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এছাড়া রাজশাহী বিভাগের অন্যান্য জেলার সিভিল সার্জন, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত ২৭ লাখ ৩ হাজার ১২৭ শিশুর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৩ লাখ ৮ হাজার ২০৬ জন এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৯২১ জন শিশু রয়েছে।
রাজশাহী জেলায় ৩ লাখ ৩ হাজার ১১৭ জন এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৬২ হাজার ২৫৫ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৭ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বগুড়া জেলায়। অন্যদিকে সর্বনিম্ন ১ লাখ ৩৮ হাজার শিশুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে জয়পুরহাট জেলায়।
সভায় বক্তারা অভিভাবকদের নির্ধারিত দিনে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান।