দোকান দখল বিরোধে ডাকাতি মামলা, হয়রানির অভিযোগ

এফএনএস (এম এম মফিজুর রহমান; মোল্লাহাট, বাগেরহাট) : | প্রকাশ: ২৬ জুন, ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম
দোকান দখল বিরোধে ডাকাতি মামলা, হয়রানির অভিযোগ

বাগেরহাটের চিতলমারীতে দোকানঘর দখলকে কেন্দ্র করে এক অসহায় পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দোকান দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে। তবে মামলার বাদী দাবি করেছেন, তিনি নিজের ক্রয়কৃত দোকানের দখল সংক্রান্ত বিরোধের কারণে আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন। উপজেলার হিজলা গ্রামের হিজলা বাজার এলাকার বাসিন্দা মৃত মো. নুরুল ইসলাম খানের স্ত্রী সালমা বেগম অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি দুই যমজ শিশু সন্তান হাসান ও হোসাইন এবং দুই মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারের দখলে থাকা বসতভিটার পাশের দোকানঘর দখলের চেষ্টা করছেন একই এলাকার কাজী আইনুল হক।

সালমা বেগম জানান, হিজলা মৌজার বিআরএস খতিয়ান নং-৬৫০ এর ২৮২৫ দাগের ২২ শতক জমি তার শ্বশুর আব্দুল হাই খানের নামে রেকর্ডভুক্ত। ওই জমির সড়ক সংলগ্ন অংশে তাদের কয়েকটি দোকানঘর রয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি এসব দোকান থেকে আয় করে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে আসছেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় কাজী আইনুল হক ওই দোকানগুলোর দখল নিতে চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাগেরহাট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় সালমা বেগম, তার যমজ দুই শিশু সন্তান হাসান ও হোসাইন, দুই মেয়ে ফাতেমাতুজ্জোহরা বৃষ্টি ও ঋতু আক্তারসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সালমা বেগম বলেন, “আমাদের নিজেদের দোকানেই ডাকাতির অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই। মিথ্যা মামলা দিয়ে একটি অসহায় পরিবারকে যেন হয়রানি করা না হয়।” তার দুই মেয়ে ফাতেমাতুজ্জোহরা বৃষ্টি ও ঋতু আক্তার জানান, মামলায় তাদের নাম থাকায় তারা সামাজিকভাবে বিব্রত এবং আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এ বিষয়ে মামলার বাদী কাজী আইনুল হক মুঠোফোনে বলেন, তিনি তার ক্রয়কৃত দোকানের দখল নেওয়ার চেষ্টা করে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেছেন। সমাধান না হওয়ায় আদালতে মামলা করেছেন। তবে মামলায় শিশু ও নারীদের আসামি করা এবং ডাকাতির অভিযোগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “মামলার বিষয়টি আমি ভালো বুঝি না, আইনজীবীর পরামর্শ অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে।” এ বিষয়ে চিতলমারী থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই এএসএম শাকিল নিয়াজ বলেন, “ডাকাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।” দোকানঘর দখল বিরোধ ও এ মামলা ঘিরে এলাকায় আলোচনা চলছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে