বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হলেও ইরানের নকআউটের স্বপ্ন এখনো শেষ হয়ে যায়নি। গ্রুপ ‘জি’-এর শেষ ম্যাচে শনিবার (২৭ জুন) মিশরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে সরাসরি শেষ ৩২ নিশ্চিত করতে পারেনি এশিয়ার দলটি। তবে তৃতীয় হওয়া সেরা আট দলের তালিকায় এখনো টিকে আছে তারা। ফলে অন্য গ্রুপের কয়েকটি ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে এলে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ থাকছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যমের প্রতিবেদনে এমন সমীকরণের কথাই উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসানীতির কারণে এবারের বিশ্বকাপে মেক্সিকোকে বেস ক্যাম্প হিসেবে বেছে নিতে হয়েছিল ইরানকে। গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচ খেলতে তিনবার যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করতে হয়েছে আমির গালেনোইয়ের দলকে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ভ্রমণ জটিলতার মধ্যেও তারা তিন ম্যাচেই অপরাজিত থেকেছে। তবে টানা তিন ড্রয়ে সংগ্রহ মাত্র ৩ পয়েন্ট হওয়ায় সরাসরি নকআউট নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সিয়াটলে অনুষ্ঠিত শেষ ম্যাচে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে ইরান। পঞ্চম মিনিটে মিশরকে এগিয়ে দেন মাহমুদ সাবের। তবে ১৪ মিনিটে রামিন রেজায়িয়ানের দারুণ গোলে সমতায় ফেরে ইরান। ম্যাচের শেষ দিকে জয়ও প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছিল তারা। যোগ করা সময়ে শোজা খলিলজাদেহ বল জালে পাঠালেও ভিএআর পর্যালোচনায় সেটি অফসাইড হিসেবে বাতিল হয়। এর আগে মেহদি তারেমি একটি পেনাল্টিও কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে ১,১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি।
এই ড্রয়ের পর ৩ পয়েন্ট ও শূন্য গোল ব্যবধান নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় স্থানে শেষ করে ইরান। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বেলজিয়াম এবং রানার্সআপ হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করেছে মিশর। তৃতীয় হওয়া দলগুলোর সামগ্রিক তালিকায় ইরান আপাতত ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। তাদের ওপরে আছে ৪ পয়েন্ট পাওয়া কয়েকটি দল, আর নিচে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, উরুগুয়ে, স্কটল্যান্ড, আলজেরিয়াসহ আরও কয়েকটি দল।
এখন ইরানের ভাগ্য নির্ভর করছে অন্য গ্রুপের ফলাফলের ওপর। সমীকরণ অনুযায়ী, নিচের যেকোনো একটি ফল ইরানের জন্য শেষ ৩২-এর দরজা খুলে দিতে পারে।
বাংলাদেশ সময় রোববার (২৮ জুন) যদি ক্রোয়েশিয়া ঘানার কাছে হারে, অথবা অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার ম্যাচে যে কোনো একটি দল জয় পায়, তাহলে পরাজিত দল ইরানের নিচে থাকবে। আবার ডিআর কঙ্গো ও উজবেকিস্তানের ম্যাচ ড্র হলেও ইরানের সুযোগ তৈরি হবে। এমনকি উজবেকিস্তান জিতলেও, যদি ব্যবধান ৮ গোলের কম হয়, তাহলেও গোল ব্যবধানের হিসাবে এগিয়ে থাকবে ইরান।
সব মিলিয়ে, ইরানের সামনে এখনো নকআউটের দরজা খোলা। তবে সেই টিকিট নিশ্চিত করতে নিজেদের হাতে আর কিছু নেই। শেষ ৩২-এ ওঠার জন্য এখন অপেক্ষা করতে হবে অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের।