লক্ষ্ণীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও লক্ষ্ণীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক কিংবা সাম্প্রদায়িক ঘটনা নয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, “রায়পুরের এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক বা হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক ইস্যু হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের অপপ্রচার থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত একটি গণমাধ্যম কৌশলে ভুল তথ্য প্রচার করে ঘটনাটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা এখানকার সাংবাদিকদের চিনি ও জানি। কোনো ধরনের উসকানিমূলক বা মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এখানে রাজনীতি করতে আসিনি। মানবিক বিপর্যয় নিয়ে রাজনীতি করারও কোনো ইচ্ছা নেই। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাইলে দূরে বসেও বিবৃতি দেওয়া যেত, কিন্তু আমরা বাস্তব পরিস্থিতি দেখতে ঘটনাস্থলে এসেছি।” বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, “এ ধরনের নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন ঘটনায় রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে মানবিকতা ও বিবেকবোধের পরিচয় দেওয়া জরুরি।”
তিনি বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।
জানাগেছে, গত ২৫ জুন রায়পুরে একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার, রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া এবং উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ