ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ মনোহরপুর গ্রামে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের কারনে একই দিনে দুই দফা হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক পল্লী চিকিৎসক, তার বড় ভাই এবং তিন কন্যাসহ একই পরিবারের ৫ জনকে আহত করেছে। আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার এ ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগে মনোহরপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক(৫০) জানান, তার ছোট ভাই কবির হোসেন পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক। গত ২৮ জুন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে মনোহরপুর বাজারে রেজাউলের চায়ের দোকানের সামনে বসে থাকা অবস্থায় পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে ধরে রামদা দিয়েতার ভায়ের মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়েঠেকাতে গেলে ডান হাতে গুরুতর জখম হন। পরে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে এলাপাতাড়িমারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।হামলাকারিরা একটি সাইকেল ভাংচুর করেন এবং সামছুর রহমান ওষুধ ভর্তি ব্যাগে আগুন দিয়ে প্রায় ৯ হাজার টাকার ক্ষতি করেন। পরে লোকজন আহত কবির হোসেনকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠান।এর কিছুক্ষণ পর আহত ভাইকে দেখে বাড়িফেরার পথে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটে কুদ্দুস মাস্টারের পুকুরপাড় এলাকায় আব্দুর রাজ্জাক ও তার তিন কন্যার উপর হামলা করে। এতে আব্দুর রাজ্জাকের মাথায় লোহার রডের আঘাতে গুরুতর জখম হয়এবং তার মাথায় আটটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। হামলায় তার তিন কন্যা, প্রিয়া, পাপিয়া ও পূর্ণিমা আহত হন।
পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন,এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়াা গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।