ঘুমন্ত স্বামীর অন্ডকোষ চেঁপে হত্যার পর লাশ বাড়ির পেছনে মাটিচাঁপা দিয়ে রাখেন স্ত্রী। থানা পুলিশের অভিযানে আটককৃত নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগম (৪৬) পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বরিশালের মুলাদী থানার ওসি খন্দকার সোহেল রানা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ওসি বলেন, সোমবার দুপুরে মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের চরমালিয়া গ্রামের নিজ বাড়ির পাশ থেকে মাটিচাঁপা দেওয়া অবস্থায় স্বামী হারুন হাওলাদারের (৬০) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওইসময় সন্দেহজনকভাবে নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগমকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুন থেকে হারুন হাওলাদার রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন। তার স্বজনরা বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে ঘটনার পরেরদিন ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান মুলাদী থানায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
অপরদিকে সোমবার সকালে হারুন হাওলাদারের বাড়ির পেছনে একটি নির্দিষ্টস্থানে মাটি আলগা অবস্থায় দেখতে পায় প্রতিবেশীরা। স্থানটি বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢাকা ছিল। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। তারা কঞ্চি সরিয়ে কিছুটা মাটি খুঁড়তেই মরদেহের একাংশ বেরিয়ে আসে। খবর পেয়ে মুলাদী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি খুঁড়ে হারুন হাওলাদারের মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী সেলিনা বেগমের পরকীয়া প্রেম নিয়ে তার স্বামীর সাথে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। এরপর হঠাৎ করেই নিখোঁজ হন তিনি। নিখোঁজের পর থেকেই স্ত্রী সেলিনা বেগমের কথাবার্তা ও আচরণ রহস্যজনক হয়ে ওঠে।
মুলাদী থানার ওসি খন্দকার সোহেল রানা বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে নিহতের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে বলেছেন, পারিবারিক কলহের জেরধরে নিখোঁজ হওয়ার রাতে হারুন অর রশিদকে অন্ডকোষ চেঁপে হত্যা করে তার স্ত্রী। পরে আতঙ্কিত হয়ে লাশ লুকিয়ে ফেলতে বাড়ির পেছনে মাটি খুঁড়ে সেখানে চাঁপা দিয়ে রাখা হয়। পুরো হত্যাকান্ড এবং লাশ মাটিচাঁপা দেওয়ার কাজটি তিনি একাই করেছেন বলে সেলিনা বেগম জানিয়েছে।
তবে এর পেছনে অন্য কেউ আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে সেলিনা বেগমকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।