অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে রাজশাহীর তানোরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের কক্ষ মৃত এক গৃহবধুর কান থেকে খুলে নেয়া দুল। বুধবার রাত ১০টার মৃত গৃহবধুর আমশো গ্রামের আত্নীয় স্বজনরা মালি রায়হান আলীকে ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডাক্তার বারনাবাস হাসদাকের কাছে নিয়ে যান। এসময় গ্রামের লোকজনসহ পুলিশের উপস্থিতিতে মালি রায়হান আলী কানের দুল কুলে নিয়ে গোল্লাপাড়া বাজারের সন্ধ্যা জুয়েলার্সের মালিক বিশ্বনাথ ওরফে বিশুর কাছে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেন। এসময় টিএইচও ডাক্তার বারনাবাস হাসদাক সকালে আসার কথা বলে পুলিশসহ সকলকে চলে যেতে বলেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার টিএইচও ডাক্তার বারনাবাস হাসদাক মৃতের আত্নীয় স্বজনকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে কানের দুল হস্তান্তর করেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তানোর উপজেলার তালন্দ ইউপির সুখদেবপুর গ্রামের মনোয়ার হোসেনের স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী লিপি বেগম (৪২) পেশার জনিত কারনে হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। এসময় আত্নীয়রা অটো ভ্যান যোগে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসারত অবস্থায় ওই গৃহবধুর মৃত্যু হয়। জরুরী বিভাগের বেডে থাকা ওই গৃহবধূর (লাশের) কান থেকে সোনার গহনা দুল খুলে নেয় মালি রায়হান আলী। পরে লাশ নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পর ওই গৃহবধূর শ্বাশুড়ি কানের গহনা রিং দেখতে না পেয়ে ওই গৃহবধুর বাবার বাড়ি মেডিকেলের পার্শ্বের আমশো গ্রামের আত্নীয়দেরকে বিষয়টি মোবাইল ফোনে অবহিত করেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজে মালি কর্তৃক কানের দুল খুরে নেয়ার প্রমান মিলে। ঘটনার পর থেকে লাপাত্তা ছিলো মালি রায়হান আলী। এনিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। রাতে মালি রায়হান আলী তার বাড়িতে আসলে তাকে ধরে টিএইচও'র কাছে নেয়া হয়। এবিষয়ে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাক্তার বারনাবাস হাসদাক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কানের দুল উদ্ধার করে মৃত গৃহবধূর আত্নীয়দের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে মালির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন মেডিকেলের মালি রায়হান আলীকে তার কাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে।