দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে পিতা ও সৎভাইকে নৃশংসভাবে হত্যায় জড়িত দুই ছেলে মোঃ সাদেকুল ইসলাম ও মোঃ সাকিব এর ফাঁসি ও পরিকল্পনাকারিদের উপযুক্ত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। গতকাল ৩ জুলাই শুক্রবার চম্পাতলী বাজারে বিকেল ৫ টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত ৩ ঘন্টা দশমাইল হাইওয়ে মহাসড়কে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসী। এতে করে মহাসড়কের উভয়পাশে শতশত যানবাহন আটকা পড়লে যাত্রীরা অবর্ণনীয় দূর্দশার পরিস্থিতির শিকার হয়। থানা পুলিশ ও দশমাইল হাইওয়ে থানা পুলিশের দফায় দফায় আলোচনা ও আশ্বাসে ৩ ঘন্টা পর এলাকাবাসি অবরোধ প্রত্যাহার করলে শুক্রবার রাত ৮ টয় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের টেপা পাড়ার শহিদুল হক দুলুর প্রথম পক্ষের দুই ছেলে হাবিল ও কাবিল এবং দ্বিতীয় পক্ষের দুই ছেলে সাদেকুল ও সাকিবের মধ্যে জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চরম বিরোধ চলছিল। গত ১৩ মে সকালে বাড়ির পাশের একটি জমিতে ভুট্টা ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে ২য় পক্ষের ছেলে সাদেকুল ইসলামের সাথে তার বাবা শহিদুল হকের তীব্র বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে সাদেকুল দেশীয় অস্ত্র বল্লম ও ধারালো ছুরি দিয়ে পিতার বুকে সজোরে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই পিতার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ সময় সৎভাই কাবিল পিতাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সাদেকুল ও সাকিব তাকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়। নৃশংস এই জোড়া খুনের ঘটনায় নিহতের প্রথম পক্ষের বড় ছেলে হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে চিরিরবন্দর থানায় সৎভাই ও সৎমাসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় র্যাব-১৩ এবং চট্টগ্রামের র্যাব-৭ এর একটি চৌকস দল যৌথ অভিযান চালিয়ে গত ২৯ জুন দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানাধীন আকমল আলী রোড এলাকার একটি রিকশা গ্যারেজ থেকে মূল হোতা সাদেকুলকে গ্রেপ্তার করে। একই দিন রাত সোয়া ৯টার দিকে ওই থানারই হোটেল বুলু- সোম ইন্টারন্যাশনালের সামনে থেকে মামলার দ্বিতীয় আসামি সাকিবকেও গ্রেপ্তার করা হয়।