পূর্ব সুন্দরবনের মৃগামারী খালে গভীর রাতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে হরিণ শিকারের ফাঁদসহ চার শিকারিকে হাতেনাতে আটক করেছে বন বিভাগ। একই সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে একটি নৌকা, আড়াই মণ কাঁকড়া এবং কাঁকড়া ধরার নিষিদ্ধ চারু। শনিবার (৪ জুলাই) ভোররাত তিনটার দিকে এই অভিযান পরিচালিত হয় এবং দুপুরে আটককৃতদের বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) দ্বিপন চন্দ্র দাস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁদপাই ফরেস্ট স্টেশন ও আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের বনরক্ষীরা যৌথভাবে মৃগামারী খালে এই অভিযান পরিচালনা করেন। ঘটনাস্থল থেকে চার শিকারিকে আটকের পর তাদের নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে হরিণ ধরার মালা ফাঁদ, সাতটি ঝুড়িতে রাখা আড়াই মণ কাঁকড়া, কাঁকড়া ধরার ৫০টি নিষিদ্ধ চারু এবং অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
আটককৃত শিকারিরা হলেন - মোংলা উপজেলার দক্ষিণ চিলা গ্রামের ফরিদ হাওলাদার (৩০), আতাউর খান (২৮), মোজাম জোমাদ্দার (২৯) এবং রুহুল জোমাদ্দার (৩০)। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বর্তমানে সুন্দরবনে মাছ ধরার ওপর তিন মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই চার শিকারি অবৈধভাবে বনে প্রবেশ করে হরিণ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছিল এবং কাঁকড়া আহরণ করছিল।
ডিএফও আরও জানান, আটককৃতদের মধ্যে ফরিদ হাওলাদার সুন্দরবনের একজন কুখ্যাত পেশাদার হরিণ শিকারি। তাঁর বিরুদ্ধে বন আইনে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে এবং এর আগে জেল থেকে জামিনে বের হয়ে সে পুনরায় হরিণ শিকারে জড়িয়ে পড়ে। আটক চার শিকারির বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে ডিএফও নিশ্চিত করেন।