ভিক্ষুক সেজে এক বৃদ্ধার বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে গভীর রাতে বৃদ্ধাকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে স্বর্ণালংকার লুট এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের মক্রমপ্রতাপ গ্রামের। গুরুত্বর আহত সাফিয়া খাতুন (৭০) বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি (সাফিয়া) ওই গ্রামের ফুল শরীফের স্ত্রী। ঘটনার সাথে জড়িত একই ইউনিয়নের বুখাইনগর ইছাগুড়া গ্রামের বাসিন্দা রুমা বেগম (৪৫) ও তার ছেলে মো. শাকিলকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা করেছেন আহত বৃদ্ধার ভাই আশরাফ আলী সিকদার। শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাতে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে কোতয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মামলার বাদী আশরাফ আলী সিকদার জানান, অভিযুক্তরা চরমোনাই এলাকার বাসিন্দা। তবে ঘটনার পাঁচদিন আগে রুমা বেগম নিজেকে ঝালকাঠির বাসিন্দা, অসহায় ও ভিক্ষুক পরিচয় দিয়ে সাফিয়া খাতুনের বাড়িতে রাতযাপনের জন্য আশ্রয় চান। সরল বিশ্বাসে সাফিয়া তাকে নিজের বাড়িতে থাকতে দেন। পরেরদিন সকালে রুমা ভিক্ষাবৃত্তির কথা বলে চলে যান। পরে ১ জুলাই রাত আটটার দিকে তিনি আবারও দুটি কাপ আইসক্রিম নিয়ে বৃদ্ধার বাড়িতে এসে রাত কাটানোর অনুরোধ করেন। এ সময় তার ছেলে শাকিল বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রুমার দেওয়া আইসক্রিম খাওয়ার পর রাত সাড়ে বারোটার দিকে বৃদ্ধা নিজ কক্ষে কিছুটা অচেতন হয়ে পরেন। এ সুযোগে শাকিল ঘরে প্রবেশ করেন। এরপর রুমা বৃদ্ধার গলা থেকে স্বর্ণের চেইন খুলে নেন। পরে কানের দুল খুলতে গেলে বিষয়টি টের পেয়ে বৃদ্ধা রুমার হাত চেঁপে ধরেন। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মা-ছেলে কানের দুল ও গলার চেইন ছিনিয়ে নেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সাফিয়া খাতুন ডাকচিৎকার শুরু করলে ঘরে থাকা ধারালো বটি দিয়ে বৃদ্ধার পেটে আঘাত করে। এতে তিনি (সাফিয়া) গুরুত্বর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরেন। পরে তার গলা চেঁপে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। বৃদ্ধার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে অভিযুক্ত মা ও ছেলে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা সাফিয়া খাতুনকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে ওইদিন রাতেই তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে তিনি (সাফিয়া) সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, বৃদ্ধা বাড়িতে একাই থাকতেন। সেই সুযোগে ভিক্ষুক পরিচয়ে আশ্রয় নিয়ে এ অপরাধ সংঘটিত করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত নারীকে শনাক্ত করা হয়। পরে শুক্রবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।