কিশোরগঞ্জে ডিম ও মুরগির ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণসহ ৬ দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন জেলার কয়েক শতাধিক পোল্ট্রি খামারিরা। একই সঙ্গে পোল্ট্রি খাতকে চলমান সংকট থেকে রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশন (বিপিআইএ) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এর আগে খামারিরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। পরে তারা গায়ে কাপনের টিপনি পড়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের বটতলা মোড়ে গিয়ে ডিম ভেংগে এর প্রতিবাদ করেন।
এসময় খামারিরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে ডিম ও পোল্ট্রি পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় তারা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন। সরকারি নির্ধারিত খামার পর্যায়ে প্রতি ডিমের মূল্য ১০ টাকা ৮০ পয়সা হলেও বাস্তবে ৭টাকা থেকে ৭.৫ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে দাবি করেন তারা।
তারা আরও জানান, উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় বাজারমূল্য কম থাকায় অনেক খামারি ব্যাংক ও এনজিও ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। পাশাপাশি খাদ্য, বাচ্চা, ওষুধ ও ভ্যাকসিনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিকে পোল্ট্রি শিল্পের সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। খামারিদের দাবি, বহুজাতিক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ থেকে পোল্ট্রি শিল্পকে রক্ষা, ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। তারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে দেশের পোল্ট্রি খাতের পাশাপাশি ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তাও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশন (বিপিআইএ) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. সাদেকুর রহমান, সদস্য সচিব মো. রফিকুল ইসলাম,খামারী মো. শহীদ মল্লিক, মো. নুরুল আরেফিন লিংকন, আব্দুল ওয়াদুদ, বিপি আইএর কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য মো. সুলতান কবির ও হাফেজ মাও রাশিদ আহমেদসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের খামারি ও নেতৃবৃন্দ।