সিলেটে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠকে সিলেটের পর্যটন খাতের উন্নয়ন, ডিজিটাল প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সিলেটি প্রবাসীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি সিলেটে মার্কিন বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় নতুন খাত চিহ্নিত করা এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হন।
এ সময় সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পর্যটন সম্ভাবনা এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্র্যান্ডিং করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের সহযোগিতা সিলেটের পর্যটন শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সহায়ক হবে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “সিলেটের উন্নয়নে মার্কিন প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ কাজে লাগানোর বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তিনি আরও জানান, সিলেটে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যেও উভয় পক্ষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেছে।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এম এ মালিক, তাহসিনা রুশদীর লুনা, এমরান আহমেদ চৌধুরী ও মুফতি আবুল হাসান। এছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করে যে, এ উদ্যোগ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং সিলেটের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।